



আপনি কী জানেন শোলে ছবিটি ‘ফ্লপ’ হতে হতে ‘সুপার হিট’ হয়।
মুক্তির প্রথম দু’সপ্তাহে ব্যবসা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বহু হল মালিক শো কমিয়ে দেন। মুখে-মুখে প্রচারই ধীরে ধীরে ছবিটিকে সুপারহিট বানায়।

এই ছবিটিতে সেন্সর কাঁচি চালিয়েছিল ক্লাইম্যাক্সও
এই সিনেমার আসল ক্লাইম্যাক্স ছিল অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। সিনেমার মূল চিত্রনাট্যে ঠাকুর গব্বরকে পায়ের জুতোর পেরেক দিয়ে মেরে ফেলেন। কিন্তু সেন্সর বোর্ড মনে করেছিল এতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া শেখানো হচ্ছে। ফলে বদল আসে চিত্রনাট্যে। পুলিশ এসে গব্বরকে গ্রেপ্তার করছে, এমন দৃশ্য রাখা হয়।

সেই বিখ্যাত ‘রামগড়’ আসলে রামগড় নয়
ছবির বিখ্যাত গ্রাম রামগড় বাস্তবে কর্ণাটকের রামনগরম অঞ্চলে তৈরি করা একটি সেট। সেখানকার স্থানীয়দের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে গল্পের কোনও মিল ছিল না!
কিন্তু শুটিংয়ের আড়াই বছর ধরে ওই এলাকায় সিপ্পি প্রোডাকশন এমন প্রভাব ফেলেছিল যে স্থানীয়রা ওই জায়গার নামই দিয়ে দিয়েছিল 'সিপ্পিনগর'।

জয়-বীরুর আসল পরিচয় সিনেমার দুই প্রধান চরিত্র 'জয়' এবং 'বীরু'র নাম কাল্পনিক ছিল না। চিত্রনাট্যকার সেলিম খান তাঁর দুই কলেজ বন্ধুর নামানুসারে এই চরিত্র দুটির নামকরণ করেছিলেন।

শোনা যায় শুটিং এর সময় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন অমিতাভ
শুটিংয়ের সময় ধর্মেন্দ্র উত্তেজিত হয়ে আসল গুলি চালিয়ে দিয়েছিলেন। সেই গুলি অমিতাভ বচ্চনের কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। সেদিন বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন বিগ বি।

শচীন পিলগাঁওকর পারিশ্রমিক হিসেবে 'ফ্রিজ'!
শোলে-তে আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা শচীন পিলগাঁওকর। তবে এই ছবির জন্য কোনও টাকা পারিশ্রমিক নেননি তিনি। পরিচালক রমেশ সিপ্পি খুশি হয়ে তাঁকে একটি রেফ্রিজারেটর উপহার দেন।

রটনা শোনা যায়, শুটিং চলাকালীন ধর্মেন্দ্র লাইটম্যানদের টাকা দিতেন ইচ্ছে করে আলো ভুল করার জন্য। যাতে রিটেক হয় এবং তিনি হেমা মালিনীর সাথে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য আরও বেশি সময় পান।

ট্রেন ডাকাতি, শোলের সেই বিখাত্য দৃশ্য এক টেকে হয়নি
এই আইকনিক দৃশ্যটি তুলতে লেগেছিল প্রায় ২১ দিন। বহুবার লোকেশন ও আলো বদলাতে হয়।

‘গব্বর’ হতে পারতেন ড্যানি!
সবাই আমজাদ খানকেই ‘গব্বর’ হিসেবে চেনে। কিন্তু এই চরিত্রের জন্য পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন ড্যানি ডেনজংপা। তিনি তখন ‘ধরমাত্মা’ ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। আর এভাবেই ইতিহাস তৈরি করেন আমজাদ খান।

গব্বর হতে চেয়েছিলেন সঞ্জীব কুমার
ঠাকুর নয়, গব্বর হতে চেয়েছিলেন সঞ্জীব কুমার। 'ঠাকুর বলদেব সিং'-এর চরিত্রে সঞ্জীব কুমার অমর হয়ে আছেন। কিন্তু প্রথমে তিনি গব্বর সিংয়ের চরিত্রটিই করতে চেয়েছিলেন। পরে চিত্রনাট্যকার সেলিম-জাভেদ তাঁকে বোঝান যে এই সিনেমায় নায়িকার (হেমা মালিনী) হাত শেষমেশ ঠাকুরই পাবেন। যদিও বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছিল।