


অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: কাটোয়া জংশনকে দু’বছর আগেই ‘অমৃত ভারত’ তকমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ প্রায় ৩৪ কোটি টাকা খরচ করে হাওড়ার মতো কাটোয়া স্টেশনেও সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে। বন্দে ভারতের মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের ট্রেন কাটোয়া স্টেশনের উপর দিয়ে যাতায়াত করে৷ অথচ, সেই স্টেশনেই নিরাপত্তার বালাই নেই৷ সবার সামনে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ট্রেনের আস্ত একটা বগি! এমন দুর্ঘটনা এই প্রথম নয়। আগেও ঘটেছে। স্বাভাবিকভাবেই নজরদারির অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। যদিও হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কপূর বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে দেখি৷ এবারও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
কাটোয়া স্টেশনে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও হুঁশ ফিরছে না রেল কর্তৃপক্ষের। এমনটাই অভিযোগ যাত্রী সাধারণের। এই স্টেশনে বন্দে ভারতের মতো সর্বোচ্চ গতিশীল ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে৷ সেই স্টেশনেই বারবার দুর্ঘটনার জেরে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের৷ তাঁদের সাফ বক্তব্য, টিকিট কেটে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। অথচ, নিরাপত্তার প্রশ্নে রেলের গাছাড়া ভাব। স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনই দাউ দাউ করে পুড়ে গেল। ট্রেনটি ছেড়ে গেলে কী যে হতো, তা ভাবলেই শিউরে উঠছি।
গত ১৩ জানুয়ারির কথা। কাটোয়া জংশনে বড়সড় সিগন্যাল বিপর্যয় ঘটে৷ ফলে সারাদিন একাধিক শাখায় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। জানা গিয়েছে, কম্পিউটার চালিত সিগন্যাল ব্যবস্থাতে একটি ত্রুটি ধরা পড়েছিল৷ স্টেশনের ৭ নম্বর প্লাটফর্মের পাশে রেলের লোকেশন বক্স ছিল৷ সেটি আগুনে পুড়ে ছারখার যায়৷ আর তাতেই সমস্যা হয়৷ এই ঘটনার ঠিক একমাস পরেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড।
নিত্যযাত্রী তপন মেটে, হারাধন গড়াইরা এদিন বলছিলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সকালে ট্রেন ধরার জন্য প্ল্যাটফর্মে থাকি৷ ট্রেন ছাড়ার আগেই ফাঁকা বগিতে আমরা বসে থাকি৷ কেউ কেউ ঘুমিয়েও পড়ি। আজ বগিটিকে যেভাবে পুড়তে দেখলাম, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। ওই কামরায় ভাগ্যিস কোনও যাত্রী তখন ছিল না। থাকলে কেউই রক্ষা পেতেন না। বড্ড আতঙ্কে রয়েছি। আরপিএফ স্টেশনে একটু ঘোরাঘুরি করলেই জরিমানা করে। চরম দুর্ব্যবহার করে৷ অথচ তারা নজরদারি ঠিকমত চালায় না৷’
ব্যাণ্ডেল-কাটোয়া শাখায় সারাদিনে ২১ জোড়া ট্রেন চলাচল করে৷ পাশাপাশি কাটোয়া-বর্ধমান, কাটোয়া-আমোদপুর, কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখা নিয়ে মোট ৫৩ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে৷ সারাদিনে কয়েক হাজার যাত্রী স্টেশনে আসা-যাওয়া করে৷ প্রশ্ন উঠছে, নজরদারির অভাবেব সুযোগ নিয়ে কেউ যদি ফাঁকা ট্রেনে বিস্ফোরক রেখে দেয়, সেক্ষেত্রেও বড় বিপদের সম্ভাবনা থাকে। এদিনের অগ্নিকাণ্ডেও বাইরের কাউকে সন্দেহ করছে রেল। তা হলে কেন নিরাপত্তায় এত ঢিলেঢালা ভাব থাকবে? প্রশ্ন যাত্রীদের। এদিকে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ তৃণমূল সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেছে, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী আসলে ‘রিল মন্ত্রী’। পাশাপাশি ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘আমরা যে দুই ভারতের কথা বলি, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড! একটা ভারত, হল ‘বন্দে ভারত’ কিংবা ‘বুলেট ট্রেন’-এর চোখধাঁধানো প্রচার৷ আর একটা ভারত হল, যেখানে সাধারণ প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলি এক-একটা মৃত্যুফাঁদ! বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘যারা এসব বলছেন, তাঁদের মুখে এসব মানায় না। তাঁরা রাজ্যটাকে সুরক্ষিত রেখেছেন কি?’