


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: দমদম স্টেশনের পুরনো হকার অশোক ভৌমিক বিজেপির সক্রিয় কর্মী। অন্যান্য দোকানের সঙ্গে তাঁর এবং আরও দুই বিজেপি হকারের দোকান শনিবার গুঁড়িয়ে দিয়েছে রেল। দোকান বাঁচাতে সিটুর দ্বারস্থ হন অশোকরা। তারপর তাঁকে পড়তে হয় অন্যান্য হকারদের তীব্র কটাক্ষের মুখে।
শনিবার মধ্যরাতে দমদম স্টেশনে প্রায় ৫০০ দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে রেলের বুলডোজার। বাদ যায়নি বিজেপি কর্মীদের দোকানও। অশোকের অভিযোগ, ২০২১ সালে বিজেপি করার অপরাধে দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল তৃণমূল। তারপর তৃণমূলেরই অন্য অংশের নেতাদের হাতেপায়ে ধরে তিনি দোকান খুলেছিলেন। কিন্তু গোপনে বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করতেন। ভোটে বিজেপি জেতায় লাড্ডু বিলি করেছিলেন। আইএনটিটিইউসি ইউনিয়ন করার অপরাধে কয়েকজন হকারের দোকান বন্ধ করিয়েও দিয়েছিলেন। এবার বিজেপি সরকারের রেল গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিজেপিরই কর্মীদের দোকান। ফলে অশোকরা হতাশ, ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত।
দমদম স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কচুরি সেন্টার ছিল অশোকের। ছেলের নামে গুমটির নাম রেখেছিলেন অতনু কচুরি সেন্টার। এর পাশাপাশি চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে চায়ের দোকান ছিল সুকুমার সাহার। ওই প্ল্যাটফর্মেই লটারির দোকান প্রদীপ কুণ্ডুর। এই তিনজন বিজেপির সক্রিয় কর্মী। ২০২১ সালে বিজেপি করার অপরাধে দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলার রাজু সেনশর্মার দলবল দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। তারপর অশোকবাবু তৃণমূলের হস্তক্ষেপে ১১ মাস পর দোকান খুলতে পারেন। তারপর বিজেপির হয়ে কাজ করার সময় হকার বন্ধুদের তৃণমূলকে ভোট না দিতে আবেদন জানাতেন। বিজেপি জেতার পর লাড্ডুও বিলি করেছিলেন। পাশাপাশি আইএনটিটিইউসি’র হকার ইউনিয়নের দমদম শাখার সম্পাদক শান্তা সাহা সহ ছয় হকারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হকার উচ্ছেদের নোটিশ আসার পর দমদমের বিজেপির বিধায়ক অরিজিৎ বক্সিকে চিঠি দেন। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রিতেশ তেওয়ারি সহ বহু বিজেপি নেতার কাছে দরবার করেন। হকারদের বাঁচানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু বিজেপির কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। তারপর শনিবার রাতে দোকান ভাঙার পর অশোকের গুমটি মালগাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায় রেল। শনিবার রাতে বাকি হকারদের সঙ্গে অশোকবাবু ও অন্যান্য হকাররা গিয়েছিলেন সিটুর কাছে বাম নেতৃত্বের পতাকার নীচে আশ্রয় চাইতে। তখনই অন্যান্য হকারদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন অশোকবাবু ও অন্য বিজেপি সমর্থক হকাররা।
বাকি হকাররা অশোকদের বলেন, ‘কোথায় তোদের নেতা? রাতে ঘুমোচ্ছে? আমাদের পেটের ভাত কেড়ে নিল তো? সংসার চলবে কেমন করে? ডেকে আন নেতাদের।’ কোনো উত্তর দিতে পারেননি অশোকবাবু। রবিবারও বিজেপির স্থানীয় নেতার কাছে সমমনস্ক হকারদের নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সুরাহা পাননি। তিনি বলেন, ‘বহুদিন বিজেপি করি। বিএমএস থেকে শুরু করে বিধায়ক সকলের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ কোনো আশ্বাস দেননি। রাতেই সিটুর উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে নিজের পেটের তাগিদে অংশ নিয়েছি।’ সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দেরিতে হলেও খেটে খাওয়া শ্রমিক, হকার ও গরিব মানুষ বুঝবেন কারা তাঁদের প্রকৃত বন্ধু। আর কারা মালিকপক্ষের দিকে আছে।’