


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ট্রেনের ধাক্কায় হাতি সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর খবর শোনা যায় মাঝেমধ্যেই। এই ধরনের ঘটনা আটকাতে অনেক সময় সড়কের যে অংশ দিয়ে বন্যপ্রাণী চলাচল করে, তা ‘অ্যানিম্যাল করিডর’ বা ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। ওই অংশে যানবাহনের গতি কম রাখা এবং চালককে বাড়তি সতর্ক করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। তবে বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে এমনটা চাইছে না জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)। নয়া এই আন্তঃরাজ্য সড়কের ক্ষেত্রে বনাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায় বন্যপ্রাণীদের যাতায়াতের পথ অবরুদ্ধ না করেই রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই মতো পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বনাঞ্চলের মধ্যে ১০ কিলোমিটার অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গাড়ি যাবে ‘এলিভেটেড করিডর’ বা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে। ফলে গাড়ির ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু বা জখম হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় গাড়ির গতি কম করার প্রয়োজনও থাকবে না।
সূত্রের খবর, প্রথমে এই তিন জেলায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা ‘এলিভেটেড করিডর’ করার ভাবনাচিন্তা হয়েছিল। পরবর্তীকালে এলাকা পরিদর্শনে যায় দেরাদুন থেকে আসা ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞদের দল। তাদের পরামর্শ মেনেই মোট ১০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএইচএআই কর্তৃপক্ষ। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে একটি বৈঠকও হতে চলেছে বলে খবর।
‘ভারতমালা’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে এই গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মধ্য দিয়ে জুড়বে কলকাতার সঙ্গে বারাণসী। সড়কপথে কলকাতা থেকে বারাণসী পৌঁছনো যাবে মাত্র আট-ন’ ঘণ্টায়। যেখানে এখন সময় লাগে ১৩ থেকে ১৫ ঘণ্টা। এই প্রকল্পের অধীনেই গঙ্গার উপর তৈরি হবে আরও একটি সেতু। যেটি যুক্ত করবে হাওড়া এবং কলকাতাকে। সেই মতো জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়াও এই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে হাওড়া এবং হুগলিতেও।
এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘এই রাস্তাটি হবে ছয় লেনের। অর্থাৎ, রাস্তা চওড়া হবে প্রায় ২৩ মিটার বা ৭৬ ফুট। গ্রাউন্ড লেভেলে রাস্তা তৈরি হলে সমস্যা হল, বন্যপ্রাণীরা তো রাস্তা পারাপার করবেই। আর এত প্রশস্ত রাস্তা পার হতে অনেকটা সময়ও লাগবে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাবে। রাস্তার ধারে সতর্কবার্তা দিয়ে বোর্ড থাকলেও এই রাস্তায় হঠাৎ করে গাড়ির গতি কমিয়ে ফেলাটাও সমস্যা হবে। সেই কারণেই এলিভেটেড করিডরের সিদ্ধান্ত।’