


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্যদপ্তরের মাঝে ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছেন ১২৪০ জন আয়ুষ চিকিৎসক। তাঁদের সিংহভাগই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। কিছু আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসকও আছেন। পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে তাঁরা চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। ভাতার অর্থ আবার আসে স্বাস্থ্যদপ্তরের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ও স্টেট বাজেট থেকে। পঞ্চায়েত দপ্তর তাঁদের নিয়োগকর্তা। কিন্তু কাজ করেন স্বাস্থ্যের। তাঁরা বসেন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আয়ুষ ডিসপেনসারিতে বা সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। তাঁদের অভিযোগ, ১২ বছর ধরে ১৬ হাজার টাকা মাসিক ভাতায় কাজ করে চলেছেন তাঁরা। না আছে অবসরকালীন কোনও আর্থিক সুযোগসুবিধা, না আছে পরিবারকে মৃত্যুকালীন আর্থিক অনুদান। এমনকী, স্বাস্থ্যদপ্তরের অন্যান্য শাখার চুক্তিভিত্তিক আয়ুষ ডাক্তারদের মতো ছুটির সুবিধাও পান না তাঁরা। আগে ৪ ঘণ্টা ডিউটি ছিল। গত কয়েক বছর ধরে ডিউটির সময় বেড়ে ৬ ঘণ্টা হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তার উপর ১৫-২০ কিমি বা তারও বেশি দূর থেকে বাড়ি ফেরা। ফলে ন্যূনতম প্র্যাকটিস করে আয় বাড়ানোর সুযোগও কার্যত বন্ধ।
তাঁদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল আয়ুষ (জিপিএমও) ডক্টর্স জয়েন্ট ফোরাম-এর রাজ্য সম্পাদক ডাঃ বীরেশ্বর মান্না বলেন, ‘আমাদের পরিস্থিতি শোচনীয়। এভাবে সংসার চলে? আমাদের চিকিৎসকের সংখ্যা ১২৪০। তার মধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় রয়েছেন ৫০০ জন। রাজ্য বাজেটের অধীনে বাকিরা কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, আমাদের যা কাজের ধরন, স্বাস্থ্যদপ্তর নিযুক্ত করে নিক। এভাবে মাঝামাঝি অবস্থায় থেকে কতদিন সবদিক থেকে বঞ্চিত হব?’ এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘মাঝামাঝির তো কোনও ব্যাপার নেই। ওঁরা পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনস্থ চিকিৎসক। ওঁদের দাবিদাওয়ার কথা শুনেছি।’ পঞ্চায়েতসচিব পি উলগানাথন বলেন, ‘আয়ুষ চিকিৎসকদের দাবিদাওয়া পেয়েছি। স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে।’