


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ঋণ পাইয়ে দেওয়ার টোপ। পার্সোনাল লোন দেওয়ার নামে গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করত যাবতীয় নথি। কিন্তু, ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বদলে সেই নথি দেখিয়ে সে ইএমআইতে কিনত এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা দামের আইফোন! ২০ জনের বেশি গ্রাহকের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করে প্রায় ৫০টি আইফোন কিনেছিল করেছিল সে। নিজেদের নামে প্রোডাক্ট লোনের ইএমআই শুরু হতেই গ্রাহকরা বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার। অবশেষে বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিসের হাতে পাকড়াও হল প্রতারণা চক্রের অন্যতম পান্ডা। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সৌমিক ভট্টাচার্য। হাওড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, গত ১৪ মে এক মহিলা বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় সৌমিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই যুবক তাঁকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু, তাঁর নামে ইএমআই অর্থাৎ, কিস্তির টাকা কাটা শুরু হয়েছে। অথচ, তিনি কোনও ঋণের টাকা পাননি। এমনকী, ফোনের ইএমআই শুরু হলেও তিনি হাতে কোনও ফোনও পাননি! এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস হাওড়ার দাশনগর থেকে সৌমিককে গ্রেপ্তার করে। কমিশনারেটের এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ধৃত জেরায় স্বীকার করেছে, সে প্রায় ২০ জন গ্রাহকের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা করেছে। প্রায় ৫০টি আইফোন হাতিয়েছে সে। এর সঙ্গে অন্যান্য ফোনও রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতকে জেরা করে পুলিস জানতে পেরেছে, ওই যুবক বিভিন্ন গ্রাহককে ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে পার্সোনাল লোন পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিত। এক লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের কথা বলত। অনেকেই সেই ঋণ নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ওই যুবক তখন গ্রাহকের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, ক্যানসেল চেক সহ যাবতীয় নথি নিত। তারপর গ্রাহককে স্থানীয় কোনও আইফোনের শোরুমে নিয়ে যেত। গ্রাহককে বুঝতে না দিয়ে সে শোরুমে বলত, ইএমআইয়ে আই ফোন কিনব। আবার গ্রাহককে বলত, একটি আইফোন হাতে ধরে ছবি তুলতে হবে। তাহলেই ঋণ ঢুকে যাবে অ্যাকাউন্টে।
গ্রাহকরা তাই করতেন। শোরুমের কর্মীরা ভাবতেন, ওই গ্রাহকই হয়তো আইফোন কিনতে এসেছেন। সৌমিক এরপর গ্রাহককে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে ওই নথি দিয়ে নিজে আইফোন কিনত। একমাসের মধ্যে আইফোনের কিস্তি শুরু হতো গ্রাহকের নামে। তখন তাঁরা আকাশ থেকে পড়তেন। পুলিস অভিযুক্তকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ওই আইফোনগুলি সে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিত। এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকেই যুক্ত। তাদের খোঁজ চলছে।