


পাটনা: বিহারে বিপুল ভোটে জয় এনডিএ-র। ২০০-র বেশি আসন পেয়ে বিরোধী শিবিরকে বিধ্বস্ত করেছে তারা। ভোটের ফলাফল নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। এরই মধ্যে জানা গিয়েছে, বিহারে নবনির্বাচিত ২৪৩ বিধায়কদের ৯০ শতাংশই কোটিপতি। তথ্য বলছে, বিধানসভায় কোটিপতিদের সংখ্যা আগের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, ১০২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। তালিকায় শীর্ষে বিজেপি।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ২১৮ জন বিধায়কেরই মোট সম্পদ এক কোটি টাকার বেশি। গত বিধানসভায় এই সংখ্যা ছিল ১৯৪ (৮১ শতাংশ)। বিধায়কদের গড় সম্পদের পরিমাণ আগের বিধানসভার তুলনায় বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুন। অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস ও ইলেকশন ওয়াচের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২০ সালের জয়ী প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪.৩২ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৯.২ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, জেডিইউর ৮৫ বিধায়কের মধ্যে ৭৮জনই কোটিপতি। বিজেপির ৮৯ বিধায়কের মধ্যে কোটিপতি ৭৭ জন। আরজেডির ২৫ বিধায়কের মধ্যে ২৪, এলজিপি (রামবিলাস)-র ১৯ বিধায়কের মধ্যে ১৬ এবং হামের ৫ বিধায়কের মধ্যে ৪ জনের সম্পত্তির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। কংগ্রেস (৬), মিম (৫), রাষ্ট্রীয় লোকমোর্চা (৪)-র প্রত্যেক বিধায়কই কোটিপতি। সিপিআইয়ের একমাত্র বিধায়ক এবং সিপিআইএমএলের দুই জয়ী প্রার্থীর মধ্যেওএকজন এই তালিকায় রয়েছেন। এবারের ভোটে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে ধনীতম মুঙ্গের থেকে নির্বাচিত বিজেপির মুঙ্গেশ কুমার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১০৭ কোটি টাকার বেশি। এরপরই রয়েছেন মোকামার জেডিইউ বিধায়ক অনন্ত সিং। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। তথ্য বলছে, বিহারের নবনির্বাচিত বিধায়কদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে ১০২ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগ। ১৯ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের চেষ্টার ধারা। ন’জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর ধারা। তালিকার শীর্ষে বিহার থেকে ‘জঙ্গলরাজ’ খতম করবার আশ্বাস দেওয়া বিজেপি। তাদের ৪৩ বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এরপরেই রয়েছে বিজেপির জোটসঙ্গী জেডিইউ (২৩)। লালু প্রসাদ যাদবের দল আরজেডির অভিযুক্ত বিধায়কের সংখ্যা ১৪।