


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের এক নম্বর সরকারি হাসপাতাল হল পিজি। সেখানে বাম জমানার তুলনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় আউটডোর রোগীর সংখ্যা বাৎসরিক বেড়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ। সম্পূর্ণ নিরখচায় লক্ষ লক্ষ টাকার চিকিৎসা প্রায় বিনামূল্যে করাতে বহু মানুষ রোজ যাচ্ছেন পিজি।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ২০১১ সালে বাম বিদায়ের লগ্নে পিজি’র বিভিন্ন আউটডোরে প্রতিদিন ডাক্তার দেখাতে আসতেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। বছরে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ আসতেন ডাক্তার দেখাতে। এর ১৪ বছর পর ২০২৫ সালে তৃণমূলের শাসনকালে দেখা গিয়েছে, রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে কাজের দিনগুলি কার্যত জনসমুদ্র দেখা যায় এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আউটডোরে। নতুন এবং পুরানো টিকিট নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা এখন দৈনিক প্রায় ১৬ হাজার! এক বছরের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ ডাক্তার দেখাতে আউটডোরে এসেছিলেন।
ইনডোরে ভর্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালে বামেদের বিদায়ের বছরে পিজির ইনডোরে ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় ৬০ হাজার রোগী। ১৪ বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ঠিক দ্বিগুণ—১৩ লক্ষের সামান্য বেশি। প্রতিদিনের হিসেব অনুযায়ী, ২০১১ সালে রোজ পিজিতে ভর্তি হতেন ১৭২ জন। এখন তা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০।
যত দিন যাচ্ছে উত্তরোত্তর রোগীর সংখ্যা বাড়ছে পিজিতে। কেন? হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ, এখানকার প্রশিক্ষিত কর্মীবর্গ এবং অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করতে থাকা চিকিৎসকরা। দ্বিতীয় কারণ, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যজুড়ে সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে সবরকমের চিকিৎসা বিনামূল্যে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট। কারণ স্টেন্ট, পেসমেকার, বেলুন, ভালভ, ডিফ্রিবিলেটর, অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট, লক্ষ লক্ষ টাকার ক্যান্সারের ওষুধ সহ হাজার হাজার জীবনদায়ী ও অপরিহার্য জিনিসপত্র পুরোটাই রোগীরা পান বিনামূল্যে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ার পর রোগীর সংখ্যা একলাফে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় কারণ, এখন অনেকগুলি অ্যানেক্স হাসপাতাল পিজি’র দায়িত্বে চলে আসায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভর্তির সুযোগ বেড়েছে।