


ধারাবাহিক ও ব্যক্তিগত চর্চা নিয়ে আড্ডায় অভিনেতা ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়।
‘আনন্দী’। গত আগস্ট থেকে জি বাংলার এই ধারাবাহিকে অভিনেতা ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়কে দেখছেন দর্শক। এখন অল্প দিনে ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়াটাই ট্রেন্ড। সেখানে ‘আনন্দী’র পথ চলা নিয়ে ঋত্বিকের প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘নজর না লাগে।’
অনিশ্চয়তা এই পেশার প্রতি পদে। তার উপর ধারাবাহিক দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কি আলাদা চাপ তৈরি করে? অভিনেতার উত্তর, ‘যেভাবে চারদিকে ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, চাপ থাকেই। কিন্তু যখন চলতে থাকে তখন ভাবি নিশ্চয়ই আমরা সকলে ভালো কিছু করতে পারছি, ভালো কিছু হচ্ছে।’ এই ‘ভালো’র মাপকাঠি কী? ঋত্বিকের জবাব, ‘অভিনয়ের ভালো মন্দ বলে কিছু হয় না। এই কাজটা টিআরপি নির্ভর। যেহেতু টিআরপিতে নম্বর ভালো না হলে তো ধারাবাহিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই নিরিখে ধরা যেতে পারে টিআরপি শেষ কথা। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ভাবে বহু ধারাবাহিক ভালো লেগেছিল, যেগুলো টিআরপি নেই বলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’
টেলিভিশনের গল্প মূলত মহিলা প্রধান। সেখানে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়াকে কীভাবে ব্যখ্যা করবেন? ঋত্বিকের কথায়, ‘ফিমেল ডমিনেটিং বলা হয় তো টেলিভিশনকে, অর্থাৎ ‘মেল ডমিনেটেড বাই ফিমেল’। আমার উপর নিশ্চয়ই ‘ডমিনেট’ করতে পারছেন কেউ। আমি বোধহয় ভালো সহ্য করতে পারছি, সেজন্য হয়তো লোকে পছন্দ করছেন।’ এই ‘ডমিনেশন’ কি চরিত্রের নাকি ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য? হেসে অভিনেতা বলেন, ‘যা ভাববেন সেটাই।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আসলে মেগা সিরিয়াল দেখেন বেশিরভাগ মহিলারাই। সেজন্য মহিলা কেন্দ্রিক গল্প তৈরি হয়। যেহেতু আমাদের পুরষশাসিত সমাজ, এখনও পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত, সেই দিক থেকে মহিলাদের একটু এগিয়ে রাখার জন্যই বোধহয় এই মেগা সিরিয়ালের উৎপত্তি হয়েছিল। তাতে তো কোনও অসুবিধে নেই। মহিলারা তো শক্তিশালীই। দিনের শেষে এক মহিলার শক্তির কাছে পুরুষের শক্তি কিছুই নয়। ইতিহাস, পুরাণ তার সাক্ষী।’
পরপর বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করে ফেলেছেন ঋত্বিক। কিন্তু ওটিটি বা সিনেমায় এখনও তাঁর ডাক আসেনি। তার কারণ? ঋত্বিক স্পষ্ট বলেন, ‘আমাকে কেউ ওটিটি বা সিনেমাতে কাজের জন্য বলেন না। আমি বোধহয় অতটাও যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’ দিনভর শ্যুটিংয়ের ব্যস্ততাই তাঁর অভিনয় চর্চার সেরা সময় বলে মনে করেন ঋত্বিক। ‘সারাদিন যতটা সময় ফ্লোরে থাকি, ১২ ঘণ্টা বা ১৪ ঘণ্টা— পুরো সময়টা তো আমার দৃশ্য থাকে না। আমার শেখার জায়গা ফ্লোরটাই। আমি ওখানেই থাকি। বাকিদের কাজ দেখি। পরিচালক কী চাইছেন, কোন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখছেন, কীভাবে দৃশ্য ক্যামেরায় তোলা হচ্ছে, সেগুলোই আমার শেখা।’
কোনও নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য এখনও পর্যন্ত ওয়ার্কশপ করার প্রয়োজন হয়নি তাঁর। কিন্তু প্রয়োজনে ওয়ার্কশপে আপত্তি নেই। অভিনেতা বলেন, ‘২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বাংলা থিয়েটারের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ছিলাম। ওয়ার্কশপ আমি যাপন করেছি। তেমন কোনও চরিত্র যদি কেউ অফার করেন, যেখানে আমি বুঝব বা পরিচালক, প্রযোজক যদি মনে করেন আমার ওয়ার্কশপ করার প্রয়োজন, নিশ্চয়ই করব। সোহাগ সেনের দলে চারটে প্রোডাকশনে কাজ করেছি। শেখর সমাদ্দারের দলে আমি সেক্রেটারি ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি অভিনয় শেখানো সম্ভব নয়। নিজেকে বুঝতে হয়। এটা অঙ্কের মতো। সূত্র বলে দেওয়া যায়। বাকি প্র্যাকটিস নিজেকেই করতে হবে। অভিনয়ও তাই, চর্চা করতে হয়। পদ্ধতিটা বলে দেওয়া যায়।’ ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে সেই সূত্র ধরিয়ে দেওয়ার কাজটা করতে চান অভিনেতা।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য