


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রথযাত্রার আগে মায়াপুরে রাস্তা সাফাই অভিযানে নামল পঞ্চায়েত ও পুলিস প্রশাসন। আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র মায়াপুরের রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা জবরদখল করে অনেকে ব্যবসা করছেন। অনেকে রাস্তার উপর দোকান বাড়িয়ে নিয়েছেন। আবার দোকানগুলিতে বাড়তি ত্রিপল টাঙিয়ে বেঞ্চ পেতে ব্যবসা চলছে। এছাড়া অধিকাংশ রাস্তার পাশে নোংরা-আবর্জনা পড়ে থাকছে। রথের আগে রাস্তা পরিষ্কার করে জগন্নাথদেবের আসার পথ পরিচ্ছন্ন রাখতে চাইছে পঞ্চায়েত ও প্রশাসন।
ইসকনের রথ উপলক্ষ্যে মায়াপুরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। দেশ-বিদেশের ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে যাতে মায়াপুরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকে, সেই কারণে পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এমনকী, বিদেশিরা যাতে এই রথযাত্রায় সুষ্ঠুভাবে অংশ নিতে পারেন, প্রশাসন সেই দিকেও লক্ষ্য রেখেছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। জবরদখলকারী ব্যবসায়ীদের সরকারি জায়গা থেকে উঠে যাওয়ার জন্য আগেই মাইকে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু, মায়াপুর আজও জবরদখলমুক্ত হয়নি। সরকারি জায়গায় রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে। অনেকে রাস্তার পাশেই ইমারতি দ্রব্য রেখে ব্যবসা করছেন। এমনকী, রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে নোংরা-আবর্জনাও। ফলে প্রতিদিনই যানজট সমস্যায় পড়ছেন মায়াপুরে ঘুরতে আসা পুণ্যার্থী, পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার মায়াপুরে গিয়ে দেখা গেল, ইসকনের মূল গেটের সামনে থেকে রাজাপুর মোড় পর্যন্ত পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়। ত্রিপল টাঙিয়ে বেঞ্চ পেতে ব্যবসা করছে, এমন দোকানগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা আবর্জনার স্তূপ জেসিবি দিয়ে ট্রাক্টরে তুলে পরিষ্কার করা হয়। মায়াপুর-বামুনপুকুর-২ পঞ্চায়েতের প্রধান মৈত্রেয়ী ঘোষ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র মায়াপুরে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটক আসেন। তাঁদের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া যাচ্ছে। রাজাপুর থেকে ইসকন মন্দিরে যাতে সুষ্ঠুভাবে রথ যেতে পারে, সেই জন্যই এই রাস্তা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নিদয়া সাহেবনগরের বাসিন্দা দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, মায়াপুরের সুন্দর পরিবেশে রাস্তার পাশে নোংরা ফেলা হয়। তা দেখে অনেকেরই খারাপ ভাবনা তৈরি হয়। সামনেই বাচ্চাদের স্কুল রয়েছে। এটা সকলেরই দেখা উচিত। সামনে রথ উৎসব রয়েছে। তাই পরিষ্কার করা হচ্ছে। কিন্তু, দু’দিন পরে আবার সেই আগের অবস্থা হয়ে যাবে। চারদিক সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক, এটা পঞ্চায়েত ও পুলিস প্রশাসনের দেখা উচিত।
মায়াপুরের ওসি অপর্ণা হালদার বলেন, একশ্রেণির মানুষ সচেতন হচ্ছে না। আমরা বারবার মাইকিং করছি। পুলিস সুপারের নির্দেশ মতো আমরা চেষ্টা করছি, যাতে মানুষ সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করতে পারে। রাস্তা যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। আমরা বারবার সচেতন করি। আগামী দিনেও আমাদের এই ধরনের প্রচেষ্টা থাকবে। সামনেই রথযাত্রা ও মহরম উৎসব। উৎসবের দিনগুলি সকলে যাতে সুষ্ঠুভাবে উপভোগ করতে পারেন, সেটা দেখাই আমাদের লক্ষ্য।