


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত ১৫ বছরে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রকল্প সফলভাবে রূপায়ণ করেছে রাজ্য সরকার। যে কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা। কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মুনাফার অঙ্ক বৃদ্ধিতে উৎসাহিত হয়েছে বাংলার কৃষক সম্প্রদায়। তাই চলতি অর্থবর্ষে ঋণের (ক্রেডিট লিংকেজ) মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। যা বাংলার কৃষিক্ষেত্র নয়া নজির বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। কৃষিক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের হারও ৯০ শতাংশের বেশি এ রাজ্যে।
শুক্রবার ধন্যধান্য প্রেক্ষাগৃহে নাবার্ড আয়োজিত ‘স্টেট ক্রেডিট সেমিনার ২০২৬’-এ রাজ্যের এই সাফল্য তুলে ধরা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে রাজ্যের সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নাবার্ড আরো কী কী কাজ করলে ভালো হয়, তা উল্লেখ করেন রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র এবং কৃষিসচিব ওঙ্কার সিং মিনা। ছিলেন স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটির কনভেনর বলবীর সিং। এই অনুষ্ঠানেই রাজ্যের কৃষিক্ষেত্র সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরেন ‘নাবার্ড’-এর চিফ জেনারেল ম্যানেজার পি কে ভরদ্বাজ। তিনি জানিয়েছেন, এই আর্থিক বর্ষেই প্রথম এক লক্ষ কোটির গণ্ডি পেরোচ্ছে বাংলা। যা আগামী অর্থবর্ষে (২০২৬-২৭) বেড়ে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা হবে বলেই তাদের হিসাব। আগের আর্থিক বছরে এই অঙ্ক ছিল ৯৭ হাজার কোটি। কৃষি সহ ক্ষুদ্র শিল্প, নির্মাণ শিল্প, শিক্ষা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে। এই ‘প্রায়োরিটি সেক্টর’-এ মার্চ মাসের শেষে মোট ঋণ প্রদানের পরিমাণ ৩ লক্ষ ৭৯ কোটিতে পৌঁছবে বলে ধরা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে যা গিয়ে ঠেকবে ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটিতে। ক্ষুদ্র শিল্পে ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্রেডিট লিংকেজ বা ঋণ প্রদানের অঙ্ক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটিতে। ফলে এক্ষেত্রেও মার্চের শেষে গত বারের ঋণ প্রদানের অঙ্ক (২ লক্ষ ১২ হাজার কোটি) ছাপিয়ে যাবে। কৃষকদের ‘আন্ডার ফাইনান্স’ অর্থাৎ তাঁদের প্রয়োজনের তুলনায় কম ঋণ দেওয়ার প্রবণতার বিষয়টিও তুলে ধরেন কৃষিসচিব মিনা।