


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: নামের যুক্তাক্ষর উচ্চারণে এখনও সরগড় হতে পারেনি এআই বা কৃত্রিম মেধা। ফলে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বহু নামের বাংলা বানান উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ফলে বেড়েছে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা। ২০০২ সালের বাংলা ভোটার তালিকার সঙ্গে বিএলওদের জমা করা ফর্মের এআই দিয়ে ম্যাচিং করানো হয়। বাংলা বানানের উচ্চারণ নিজের মতো করেছে এআই। এখন তার খেসারত দিতে হচ্ছে বিএলও’দের। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের নামের বানান সংশোধন করতে হচ্ছে। জন্মের শংসাপত্র, প্যান কার্ড বা অন্য নথি দেখে তাঁরা অ্যাপসে সঠিক বানান পাঠাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সম্পুর্ণ টেকনিক্যাল ত্রুটির জন্যই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কমিশনের দেওয়া অ্যাপসে প্রথম থেকেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। বেশ কিছুদিন সার্ভার ঠিক মতো কাজ করছিল না। রাত জেগে বিএলওদের ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ করতে হয়েছে। তারপর ঘনঘন নির্দেশ বদল হয়েছে। এবার শেষ মুহূর্তে বানান সংশোধনের নির্দেশ আসায় বিএলও’দের চাপ বেড়েছে। কমিশন পরিকাঠামো ঠিক করে ময়দানে নামলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির জন্য শনিবার থেকে নোটিশ বিলি শুরু হয়েছে। জেলায় ২৬ বা ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুনানি হবে। প্রতিটি ব্লক অফিসেই শুনানিকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। আপাতত নো ম্যাপিং ভোটারদেরই শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথিগুলি আনতে হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় নো ম্যাপিং ভোটারের সংখ্যা ৯৮ হাজার ৫৩৬ জন। বর্ধমান দক্ষিণে নো ম্যাপিং ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজার ৫৮ জন। মতুয়া অধ্যুষিত কালনা মহকুমায় নো ম্যাপিং ভোটার রয়েছে ১০ হাজার ২১২ জন। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বহু মতুয়া ভোটার রয়েছেন। এই বিধানসভা কেন্দ্রে ১০ হাজার ৭৮৬ জন নো ম্যাপিং ভোটার শুনানির ডাক পাচ্ছেন। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুনানি কেন্দ্রগুলিতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ জনকে ডাকা হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে। বিএলও’দের অনেকেই মনে করছেন, শুনানি পর্বেও নতুন নির্দেশিকা আসতে পারে। সেই মতো তাঁরা মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁদের মতে, বানানে ছোট ভুল থাকলে সেটাও সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে। এটা না করলেও কোনও অসুবিধা হতো না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে নামের বানান ঠিক রয়েছে কিন্তু কোনও অক্ষর অথবা শব্দ আগে বা পরে হয়ে গিয়েছে। সেটাও সংশোধন করতে বলা হয়েছে। বিএলওদের ওই ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে নথি দেখে বানান সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।