


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: প্রথা মেনে প্রথমে শিবের আরাধনার পরই দেবী অন্নপূর্ণার পুজো হয় বসাকবাড়িতে। নবদ্বীপের দ্বারিকবাবুর আমবাগানের এই বাড়িতে বহুবছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের পাবনা জেলায় এই পুজো শুরু হয়েছিল। পরে বহুদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে চৈতন্যধাম নবদ্বীপে এই পুজো আবার শুরু হয়েছে।
শনিবার অন্নপূর্ণাপুজো। ভোর থেকেই বসাকবাড়িতে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। দুপুরে দেবীর ভোগে অন্ন, কচুর শাক, পঞ্চব্যঞ্জন, পুষ্পান্ন, বিভিন্ন ভাজা, ছানার রসা, পরমান্ন ও নানারকমের মিষ্টি নিবেদন করা হবে। সেই মহাপ্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় দেবীর সামনে লীলাকীর্তন ও বৃন্দাবনী নৃত্য পরিবেশিত হবে। লীলাকীর্তন পরিবেশন করবেন কীর্তনীয়া শ্রীমতি গৌরী রায় পণ্ডিত। এরপর বৃন্দাবনী নৃত্য পরিবেশন করবেন বৃন্দাবনের ব্রজসখীগণ। বসাকবাড়ির গৃহকর্ত্রী মায়ারানি বসাক বলেন, বাংলাদেশের পাবনা জেলায় এই শরিকি পুজো শুরু হয়েছিল। পরে নবদ্বীপে আসার অনেকদিন পর আমার মা অন্নপূর্ণাপুজো শুরু করেন। এই পুজো শুরুর আগে প্রথমে নবদ্বীপের প্রাচীন যোগনাথ শিব ও বাড়ির শিবলিঙ্গের পুজো হয়। তারপর দেবী অন্নপূর্ণার পুজো হয়। এই পুজো ও হোমযজ্ঞ দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন।
ওই পরিবারের বধূ সুনিপা বসাক বলেন, সারাবছরই এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকি। পুজোর দিন ভোর থেকে উপবাস থেকে সমস্ত আয়োজন করি। আত্মীয়রা ও পরিবারের যে সমস্ত সদস্য বাইরে থাকেন, পুজোর কয়েকদিন তাঁরাও বাড়িতে আসেন। বসাকবাড়ির কনিষ্ঠ সদস্য নিতাই বসাক বলেন, আমরা খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে অন্নপূর্ণাপুজো আয়োজন করি। পুজোর আগে ও পরে তিনদিন বাড়িতে নিরামিষ খাওয়া হয়। পুজোর শেষে প্রতিমা বিসর্জনের পরই বাড়ির সমস্ত সদস্য এবং আত্মীয়দের নিয়ে নানারকম মাছ খাওয়া হয়।