


সংবাদদাতা, বোলপুর: বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। রবিবার তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এসআরডিএর চেয়ারম্যান তথা বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুরে দলের কার্যালয়ে বসে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মুকুলবাবুর মৃত্যু সংবাদ শোনার পর সারাদিন প্রায় কিছু খেতে পারেননি।
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, মুকুল রায় দলের সম্পদ ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের চাণক্য ছিলেন তিনি। ১৯৮০ সাল থেকে আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তখন আমরা কংগ্রেসে ছিলাম। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর দলকে সংগঠিত করতে মুকুল রায়ের বড় ভূমিকা ছিল। তিনি আরও বলেন, শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, যুব কংগ্রেসের সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। বীরভূমের প্রত্যেক ব্লক নেতার নাম তাঁর মুখস্থ ছিল। কষ্ট করে তৃণমূলকে দাঁড় করিয়েছেন। অনেক সময়ে খাবারও জোটেনি।
স্মৃতিচারণায় অনুব্রত জানান, এমন দিনও গিয়েছে, বোলপুরে রাত আড়াইটার সময় এসে পৌঁছেছেন। হোটেলে এসে দেখেছেন খাবার নেই। তখন বলতেন, ‘কেষ্ট, তুই বাড়ি থেকে একটু খাবার নিয়ে আয়।’ মুকুলদা আমাদের সংগঠনের বড় খুঁটি ছিল। তাঁকে মেনেই সকলে চলত।
অনুব্রতর কথায়, তৃণমূলের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়কে অনেক এগিয়ে দিয়েছিলেন, আবার মুকুল রায়ও দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তিনি ছিলেন দলের অত্যন্ত পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতা। দিদির খুব প্রিয় মানুষ। তবে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, একটাই আক্ষেপ, কিছুদিনের জন্য বিজেপিতে না গেলেই ভালো হতো। বিজেপি থেকে আবার তৃণমূলে ফিরে এলেও তাঁর শরীর আর সঙ্গ দেয়নি। অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
বীরভূমে দলের সংগঠনে মুকুল রায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরে অনুব্রত জানান, নানুরের সূচপুর গণহত্যার পর প্রথম দিন থেকেই তিনি মানুষের পাশে ছিলেন। প্রতিবছর নিয়ম করে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নানুরে আসতেন। প্রত্যেক নির্বাচনের আগেই বীরভূমে অন্তত চার-পাঁচটি সভা করতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, যুব কংগ্রেসের সময় থেকেই মুকুলদার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। তাঁর অনেক ইতিহাসের সাক্ষী আমি। তাঁর চলে যাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি মর্মাহত।