


প্রীাতেশ বসু, কলকাতা: ডিসেম্বর মাসে রাজ্যে বসছে ‘বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ’। তার আগেই বাংলার ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য খুলে যেতে চলেছে নয়া দিগন্ত। বহু দিন ধরে চেষ্টার পর অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে বেশি মাত্রায় সেনাবাহিনীর পোশাক, টেন্ট থেকে শুরু করে রাইফেলের অংশ সরবরাহের বিষয়টি। এর জন্য ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে রাজ্যের ১০০টি ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিটকে। এসব ইউনিটের কর্ণধাররা সরাসরি কথা বলবেন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট গুণমান যাচাই দলের সঙ্গে। সেই আলোচনার পর্ব ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল আশাবাদী, সেনাবাহিনীর জন্য এই সমস্ত সামগ্রী সরবরাহের দরজা খুলে যেতে চলেছে শীঘ্রই। এক্ষেত্রে পণ্যের গুণমান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুণমান বজায় রাখতে পারলেই কাজের বরাত পেতে আর কোনও সমস্যা হবে না বলেই উঠে এসেছে রাজ্যের পর্যালোচনা রিপোর্টে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই কাজের জন্য ক্ষুদ্র শিল্প দপ্তরের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স। বিগত বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে নির্দিষ্টভাবে এই বিষয়ের উপরে একটি সেক্টোরাল সেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আলোচনার পরবর্তী সময়ে আরও একাধিক বৈঠক হয়। দেশের সেনাবাহিনী ব্যবহার করে, এমন কোন কোন সামগ্রী রাজ্যের ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদিত হয়, তার তালিকা তৈরি হয়। তারপর খোঁজ নেওয়া হয় এসব সামগ্রী তৈরি করে, এমন ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিটগুলির। সেগুলির মধ্য থেকেই প্রাথমিকভাবে ১০০টি ইউনিটকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র শিল্প দেশের মধ্যে এক নম্বর। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সেনাবাহিনীকে তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে আসতে হয় দক্ষিণ ভারত থেকে। একই সামগ্রী সরবরাহ করার ক্ষমতা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিটগুলির। শুধুমাত্র সামান্য সমন্বয় এবং কিছু জ্ঞানের আদানপ্রদান হলেই তা সম্ভব। যেহেতু সেনাবাহিনী ব্যাপক হারে সামগ্রী কেনে, এই কর্মসূচির ফলে ক্ষুদ্র শিল্পে আরও কাজের সুযোগ বাড়বে। সৃষ্টি হবে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানও।