


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গৃহবধূর বয়স ভাঁড়িয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম তোলার অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতের নাম মঙ্গল পাঁজা। বাড়ি নন্দকুমার থানার ভবানীচক গ্রামে। তমলুক থানার নিকাশি সংলগ্ন পূর্বানখা গ্রামের এক গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মঙ্গলকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। বুধবার তাকে তমলুক সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক দু’দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, ধৃতকে জেরা করে ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মঙ্গল একটি বিমা সংস্থার এজেন্ট। নন্দকুমার, তমলুক, ময়না সহ বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের বিমা পলিসি করে। তমলুক থানার পূর্বানখা গ্রামের এক গৃহবধূর বয়স ২৪বছর। ওই বধূর পরিবারের সঙ্গে মঙ্গলের পরিচয় হয়। অভিযোগ, ধৃত ওই বিমা সংস্থার এজেন্ট বয়স বাড়িয়ে বধূকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে হাজার টাকা পেতে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেছিল। বিনিময়ে ওই বধূকে তার কাছে একটি পলিসি করানোর শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। ন্যূনতম ২৫বছর না হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করা যায় না। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সেই শর্তে রাজি হওয়ায় মঙ্গল নথি জালিয়াতি করে বধূর বয়স বাড়িয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে সহযোগিতা করেছিল।লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ওই বধূর নাম উপভোক্তা হিসেবে এন্ট্রি হয়। প্রতি মাসে এক হাজার টাকা ঢুকতে থাকে। কিন্তু, ওই বধূ শর্ত অনুযায়ী মঙ্গলের কাছে বিমা পলিসি করাননি। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। এরপরই প্রতিশোধ নিতে ধৃত মঙ্গল নিজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। সেখানে পূর্বানখা গ্রামের ওই বধূ নথি জালিয়াতি করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম তুলেছেন বলে অভিযোগ করে। যদিও ওই কাজে তার হাত থাকার বিষয়টি সে গোপন করে। প্রশাসন এনিয়ে তদন্ত করে ওই বধূর নাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বাদ দেয়।প্রকল্প থেকে নাম বাদ পড়তেই ক্ষেপে যান ওই বধূ ও তাঁর পরিবার। নথি জালিয়াতির যাবতীয় দায় মঙ্গলের বলে ওই গৃহবধূ মঙ্গলবার তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গৃহবধূর অভিযোগ পেয়ে ওই বিমা সংস্থার এজেন্টকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।