


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শীত আসতেই বদলে গিয়েছে প্রকৃতির রূপ। স্বাভাবিক নিয়মে জলাশয়গুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে অতিথি পাখির। হাজার হাজার মাইল পথ উড়ে এসে এই পরিযায়ী পাখিরা আশ্রয় নেয় শান্ত পরিবেশে। খাবার খোঁজে জলা মাঠে। কুয়াশার ভোরে শিকারি চক্রের দাপটে বেড়েছে অবাধ পাখি শিকার। সেই পাখি আবার বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে। ফলে, নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ধকার নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে শিকারির দল। কারও হাতে থাকে দেশি বন্দুক, কেউ আবার ফাঁদ পেতে রাখে জলাশয়ের ধারে। ভোরে আলো ফোটার সময় যখন উড়তে শুরু করে পরিযায়ী পাখিরা, তখনই তাদের দিকে তাক করা হয় বন্দুক। শিকারের পর সেগুলি তুলে দেওয়া হয় চোরা বাজারে। এমনকী, শিকারিরা এইসব পাখি ধরার পর নিজেরাও রান্না করে খাওয়া দাওয়া করে। বসিরহাট সীমান্তে এই পাখির মাংস কমবেশি পাচার হয় বলে অভিযোগ। নদী তীরবর্তী এলাকায় এমন ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। পাতিহাঁস, বুনো হাঁস, শঙ্খচিল থেকে শুরু করে বেশ কিছু বিরল প্রজাতির পাখি ধরা পড়ে শিকারিদের জালে। বসিরহাট, দেগঙ্গা, স্বরূপনগর, হিঙ্গলগঞ্জ, বারাসত— সর্বত্রই পাখি শিকারিদের দাপাদাপি নজরে আসছে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে পরিযায়ী পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সেই আইন কার্যকর করতে ব্যর্থ দপ্তর। কোথাও কোথাও মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ও কয়েকজন স্থানীয় মাতব্বরের প্রশ্রয়েই পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। বারাসতের পরিবেশ কর্মী তথা প্রাক্তন শিক্ষক হিমাংশু কর বলেন, এর ফলে প্রকৃতি ভারসাম্য হারাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আগের তুলনায় পরিযায়ী পাখি আসার সংখ্যা কমে গিয়েছে। প্রকৃতি তার নিজের রূপ হারাচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম আব্দুল্লাহ বলেন, দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। নিজস্ব চিত্র