


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাকে অপমান? বাংলার মনীষীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা ভোটের আগে যেভাবে লাগাতার আকথা-কুকথা বলে চলেছেন তাতে জনমানসে নেতিবাচক প্রভাবই পড়ছে। অন্তত এমনটাই মত রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষনেতার। সংসদের চলতি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে বাড়তি মাইলেজ দেবে। দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তায়-বাজারে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামনে পেলেই মানুষ এসব নিয়ে কটাক্ষ করছেন। ফলে ভোটের আগে জনসংযোগ করতে গিয়ে উলটে বেগ পেতে হচ্ছে বিজেপির নীচুতলার নেতা-কর্মীদের। এর সদুত্তর নেই গেরুয়া প্রতিনিধিদের কাছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ মনীষীকে নিয়ে আলটপকা মন্তব্য করেছেন করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী!
অথচ বিভিন্ন রাজ্যের জন্য মোদির বক্তৃতা তৈরি করার বিশেষ টিম রয়েছে। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কে থাকেন একাধিক আইএএস বা আমলা। তারপরও কেন বারবার এই ভুল হচ্ছে! ভেবে পাচ্ছেন না রাজ্য বিজেপি নেতারা। তাঁদের কথায়, হিন্দি বলয়ের নেতারা বাংলা-বাঙালি আবেগ বুঝতে এখনও অপারগ। বিষয়টি প্রমাণিত।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের আরও বেশি সচেতন থাকা উচিত বলে মনে করছে পার্টির বঙ্গ ইউনিটের এই নেতারা। রাজ্য কমিটির এক নেতার উক্তি, ধনুক থেকে নির্গত তির আর মুখ থেকে বেরোনো কথা ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই ভোটের প্রাক্কালে এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের মুখ থেকে বেরোনো নানা বেফাঁস মন্তব্য খুঁজে খুঁজে বের করা হচ্ছে। ‘বঙ্কিমদা’র পালটা হিসেবে সেগুলি নিয়ে প্রচারে নামবে বিজেপি। তবে তাতে কাজের কাজ কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয়ে দলেরই একাংশ। তবু মুখ বাঁচাতে এই ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতেই মরিয়া বিজেপির রাজ্য নেতারা।