


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রের ১০০ দিনের টিবি মুক্ত অভিযানে কৃতিত্বের জন্য সোমবার নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে পুরস্কৃত হল বাংলা। ‘অ্যাডিশনাল টিবি কেস নোটিফিকেশন’ বিভাগে অসাধারণ কাজের জন্য শংসাপত্র পেল বাংলা। এই অল্পদিনেই ২০ হাজার ৯২৩ জন টিবি রোগীকে শনাক্ত করেছেন বাংলার স্বাস্থ্যকর্মীরা। শুধু তাই নয়, তাঁদের সরকারি চিকিৎসার আওতায়ও আনা হয়েছে। সোমবার বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেখানেই এই ঘোষণা হয়।
এদিকে কলকাতায় টিবি আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে বলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য তুলে ধরেন শহরের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালে কলকাতায় টিবি আক্রান্ত ছিলেন ১৪ হাজার।সেখানে ’২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজারের কিছু বেশি। এদিন রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। পার্কসার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন বয়সের রোগীরা। ন্যাশনাল এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব ইন্ডিয়া (রাজ্য শাখা) যৌথভাবে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বক্তারা জানান, যক্ষ্মা মানেই দরিদ্রের অসুখ, এই তথ্য সর্বতোভাবে ভুল। যে কোনও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসা মানুষই টিবিতে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকরা জানান, টিবির চিকিৎসা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া রোগীদের একাংশ কয়েক বছর পর ভয়ঙ্কর ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই টিবির ছয় মাসের সরকারি চিকিৎসা কেউ যেন হঠাৎ বন্ধ করে না দেন।
এই উপলক্ষ্যে এক বেসরকারি সংগঠনের তরফে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও আশপাশের চত্বরে রোগী এবং সাধারণ মানুষের হাতে বিনামূল্যে মাস্ক তুলে দেওয়া হয়। এদিন টিবি সচেতনতায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে একটি ট্যাবলো বের করা হয়। স্বাস্থ্যভবনে সেটির সূচনা করেন পদস্থ স্বাস্থ্যকর্তা ও কর্মীরা।