


ভালো ছবি বাংলায় হয় না। ভালো ছবি দর্শক দেখেন না। এই অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের ভিড়ে কত ছবি যে হারিয়ে যায়, তার হিসেব কষা হয় না। বিষয়, গল্প, মেকিংয়ের দিক থেকে বহু বাংলা ছবি এগিয়ে থাকলেও বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়। আর বক্স অফিস ভালো না হলে, অনেক সময় দর্শকমনে জায়গাও পায় না সেই ছবিগুলি। চলতি বছরও তেমন বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। যে ছবিগুলি আশা জাগিয়েছিল, তবে দিনশেষে হতাশ করেছে বক্স অফিসে।
প্রথমেই আসা যাক, ‘মৃগয়া’র কথায়। বাংলায় ‘কপ থ্রিলার’-এর অভাব নেই। কিন্তু এই ছবি একেবারে আলাদা। স্বল্প বাজেট, বড় প্রোডাকশন হাউজ আর তথাকথিত ‘স্টার’ ছাড়াই যে দারুণ রান্না করা যায় তার প্রমাণ দিয়েছেন পরিচালক অভিরূপ ঘোষ। বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী অভিনীত ছবিটির সম্পদ সংলাপ, ক্যামেরা, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, এডিটিং। কেবল তাই নয়, ছবিতে রয়েছে সামাজিক বার্তাও। যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা বলেছেন ভুল-ভ্রান্তি থাকলেও ছবিটির সম্ভাবনা ছিল। যদিও বক্স অফিসে তা একেবারে ফলপ্রসূ হয়নি।
অন্যরকম বিষয় বেছেছিল ‘সরলাক্ষ হোমস’ ছবিটিও। শার্লক হোমস যদি বাঙালি হতেন, কেমন হতো? এই প্রশ্ন যাঁদের মনে ঘোরে তাঁদের জন্যই এই ছবি। সায়ন্তন ঘোষালের এই ছবি ‘দ্য হাউন্ড অব বাস্কারভিলস’কে কেন্দ্র করে তৈরি। এক্সপেরিমেন্টের ঝক্কি সামলে ছবিটি তৈরি করেছিলেন পরিচালক। যদিও দর্শকমনে ছাপ ফেলতে তা ব্যর্থ। বক্স অফিসেও তেমন ভালো ফল করতে পারেনি এই সিনেমা। এখানেই বলতে হয় আরও একটি ছবির কথা। ‘রাস’। বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও দেবলীনা কুমারের পারিবারিক ছবি। এই সিনেমা নিয়েও চর্চা ছিল। যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা প্রশংসাই করেছেন। তবে বক্স অফিসে তার প্রতিফলন হয়নি।
তবে ‘স্টার কাস্ট’ ছাড়াও ভালো ছবি তৈরি করা ও তা বক্স অফিসে সফল হওয়ার নজির এ বছর রয়েছে। উদাহরণ তৈরি করেছেন পরিচালক সৌরভ পালোধি তাঁর ‘অঙ্ক কি কঠিন’ ছবিতে। সহজ-সরল, মেদহীন গল্পের প্রতি দর্শকের যে আগ্রহ চিরকালীন, এবং ভালোভাবে তা তৈরি করতে পারলে দর্শক যে সাদরে তা গ্রহণ করবেন, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন সৌরভ। মন ছুঁয়ে যাওয়া এক গল্প আর তিনটি শিশুকে কেন্দ্রে রেখে এ বছরের অন্যতম সেরা ছবি এটি। ফলে কোন ছবি বক্স অফিসে চলবে, আর কোন ছবি চলবে না, তা বোঝা সত্যিই মুশকিল। অঙ্ক সত্যিই কঠিন।