


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বিধাননগর: সম্প্রতি সল্টলেকের একাধিক থানা এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও খোয়া গিয়েছে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না। কোথাও আবার নগদ। বিধাননগর পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, সবক’টি চুরিতেই কলকাতার ট্যাংরা এলাকার একটি গ্যাং জড়িত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার রাতে হানা দেয় বিধাননগর উত্তর ও দক্ষিণ থানার যৌথ টিম। তিন অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে গিয়েই বেনজির পরিস্থিতির মুখে পড়ে পুলিশ। তাঁদের হাত থেকে অভিযুক্তদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এলাকাবাসী। শুরু হয় দু’পক্ষের বচসা। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই বচসা তুমুল আকার নেয়। বেধে যায় ধুন্ধুমার। বিধাননগর পুলিশের অভিযোগ, মারধর করা হয়েছে উর্দিধারীদের। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। জখম হন বিধাননগর কমিশনারেটের ৬ জন পুলিশকর্মী। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ট্যাংরা থানার পুলিশ। যদিও লালবাজারের দাবি, পুলিশকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
বিধাননগর পুলিশ জানিয়েছে, সল্টলেকে একাধিক চুরির ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিন জনকে চিহ্নিত করা হয়। প্রত্যেকেই ট্যাংরা থানা এলাকার ডি সি দে রোডের বাসিন্দা। রবিবার রাতে সেখানে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। ৬৬, ডি সি দে রোড থেকে পাকড়াও করা হয় তিনজনকে। অভিযোগ, তখনই আক্রোশে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা। ধৃতরা চুরির সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করতে থাকেন স্থানীয় মহিলারা। বিধাননগর পুলিশের দাবি, গ্রেফতারিতে বাধা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঘিরে ফেলা হয় গোটা তদন্তকারী টিমকে। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, ধস্তাধস্তির মধ্যে এক নাবালককে জোরে ধাক্কা দেন এক পুলিশকর্মী। নাবালক সামান্য জখমও হয়। তারপরই জনরোষ আছড়ে পড়ে। বিধাননগর পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী। কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, লাঠি, রড, টিউবলাইট নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে ধৃতদের অনুগামীরা। যদিও এই তুমুল উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও চুরিতে অভিযুক্ত ৩ জনকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিয়ে আসা হয়। আহত পুলিশকর্মীদের পাঠানো হয় বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, বিধাননগর দক্ষিণ থানার সাব ইনসপেক্টর তরুণকুমার বিশ্বাস অভিযোগে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে জুমরাতি ও চিকনা নামে স্থানীয় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (২) ডঃ প্রণব কুমার বলেন, ‘ধস্তাধস্তি হলেও পুলিশকে মারধরের মতো ঘটনা ঘটেনি।’