


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহার জয়ের পর বিজেপির টার্গেট এবার বাংলা—বঙ্গ সফরে এ কথা বলে গিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু, সে তো নিছক কথার কথা! গেরুয়া শিবিরের জয় দূর অস্ত, এরাজ্যে তারা ‘লজ্জার হার রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে’ বলেই মঙ্গলবার তীব্র কটাক্ষ করলেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় এসে তাঁর হুংকার, ‘বিজেপি দিদির কাছেই হারবে।’ তিনি মনে করেন, মানুষের হকের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার লড়াই করছেন। সেই লড়াইয়ের সামনে সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে বিজেপি।
এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট বৈঠক হয় অখিলেশের। আলোচনা শেষে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বাংলার বিধানসভা ভোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি, ‘গোটা দেশে কেউ যদি বিজেপির মোকাবিলা করে থাকেন, তা হলে সেটা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এখানে যারা বিভেদের রাজনীতি করছে, তারা জিতবে না। জিতবে দিদিই (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)।’
সোমবারই স্ত্রী ডিম্পল যাদবকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গ সফরে এসেছেন অখিলেশ। কলকাতায় পা রেখেই তিনি সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপি-নির্বাচন কমিশন আঁতাতের বিরুদ্ধে। এদিন আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়েছেন সপা সুপ্রিমো। তাঁর সাফ কথা, এসআইআরের নামে বিজেপি এনআরসির খেলায় নেমেছে। এদিন সকালে রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী জয়া বচ্চন এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে পুজো দেন অখিলেশ। সেখান থেকে বেরিয়ে দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি নবান্নে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা তথা বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী কিরণময় নন্দও। বৈঠকের পর মমতা নিজেই অখিলেশকে নবান্নের পোর্টিকো পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছাও জানান। সেই সময়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান মুলায়ম সিং-পুত্র। তাঁর সাফ কথা, প্রথম পর্যায়ের বিহারে এসআইআর হলেও, গেরুয়া শিবিরের আসল টার্গেট হল বাংলা। নির্বাচন কমিশনে ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কমিশনের কাজ হচ্ছে, যত সম্ভব বেশি যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা। কিন্তু এক্ষেত্রে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।’
তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী আই-প্যাকের অফিসে ইডি হানার তীব্র নিন্দা করেছেন অখিলেশ। তিনি বলেন, ‘বিজেপি পেন ড্রাইভ ব্যথা ভুলতে পারছে না। আমি খুশি যে দিদি ইডিকে হারিয়ে দিয়েছেন। ওরা (বিজেপি) ভুলে গিয়েছে এখানে দিদির নেতৃত্বে সরকার চলছে। ফলে ডিজিটাল ডাকাতি করে ভোটে জেতা সম্ভব নয়।’