


সুতপা গুহ, গুয়াহাটি: উত্তর-পূর্বাঞ্চল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, সবুজে ঘেরা পাহাড়, ঝর্ণা, বন্যপ্রাণী, মেঘে ঢাকা আকাশের জন্য পরিচিত। এবার এই অঞ্চলেরই ‘বার্নিহাট’ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দুই রাজ্যের সীমানা এলাকায় এই শহর। অসমের কামরূপ (মেট্রো) ও মেঘালয়ের রী-ভোই জেলার কিছু অংশজুড়ে ছড়িয়ে বার্নিহাট। খুব অল্প সময়েই এখানে একের পর এক কলকারখানা গড়ে উঠেছে।
সবমিলিয়ে কারখানার সংখ্যা ৬২। এরমধ্যে অসমের এলাকায় ৩৫ ও মেঘালয়ে ২৭টি। লৌহ ও ইস্পাত থেকে শুরু করে পানীয় জল, ঠাণ্ডা পানীয় ও সিমেন্ট কারখানা রয়েছে এই শহরে। এইসব কারখানা থেকে নির্গত গ্যাস শহরের দূষণের মূল কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কারখানা বৃদ্ধির হাত ধরে শহরে বেড়েছে ট্রাকের যাতায়াত। ট্রাকের ধোঁয়াও শহরের বাতাসে দূষণের বিষ ছড়াচ্ছে। এখান থেকেই মেঘালয়ের পাহাড় শুরু হয়। তাই দূষিত বাতাস বাইরে বেরোনোর সুযোগও কম।
সুইস সংস্থা আইকিউ এয়ার ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী ও শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে ভারত তো বটেই বিশ্বের দূষিত শহরের মধ্যে বার্নিহাট একেবারে শীর্ষস্থানে। এই রিপোর্টের নিয়ে উদ্বিগ্ন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা। তিনি বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী-উভয় ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। অসমের সঙ্গে এব্যাপারে যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
দূষণে ভোগান্তির কথা শোনা গিয়েছে শহরের বাসিন্দাদের গলাতেও। এলবার্ট মাউলিং নামে একব্যক্তির দাবি, বেশ কয়েকমাস ধরে সকাল থেকে গোটা শহর কালো ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে যায়। গাছের পাতা, ঘরের মেঝেতে কালো আস্তরণ জমছে। এরফলে এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ফুসফুসের সমস্যা ও টিবি রোগের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়ছে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এখানে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে উঠবে। বার্নিহাটের হার্লিবাগানের প্রধান সিস্টেন নংগ্রাম শব্দ ও জল দূষণের কথাও বলেছেন। সমস্যার সমাধানে অসম ও মেঘালয় উভয় রাজ্যের সরকারের কাছে তিনি আর্জি জানিয়েছেন।