


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জমিতে নাড়া পোড়ালে শুধু বায়ুদূষণ নয়, সুগার বা মধুমেহ রোগকেও ডেকে আনা! শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ঢুকছে শরীরে। ঢুকেই খেলা শুরু। কমিয়ে দিচ্ছে ইনসুলিনের কার্যকরী ক্ষমতা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, গ্রামের পাশাপাশি শহরের বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোনও এক এলাকায় নাড়া পোড়ানো হলে দূষণ দূরবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। এরফলে, গ্রাম ও শহরে দ্রুত হারে বাড়ছে সুগার রোগীর সংখ্যা।
বেশ ক’বছর ধরেই নাড়া পোড়ানো বন্ধ করতে কৃষি দফতর লাগাতার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, তারপরও অনেকেই সতর্ক হচ্ছেন না। কৃষকদের দাবি, আগে কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হতো। তাতে গাছের গোড়া গুধু থেকে যেত। এখন বেশির ভাগ জমির ধান মেশিনে কাটা হচ্ছে। তাতে শিস ছাড়া ধান গাছের বেশির ভাগ অংশ জমিতে থেকে যাচ্ছে। সেটা সরাতে হলে বাড়তি খরচ হয়। সেই কারণে জমিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। আর সেটা করতে গিয়ে ডেকে আনা হচ্ছে ‘নিঃশব্ধ ঘাতক’ সুগারের মতো ব্যধিকে।
অধ্যাপকদের গবেষণা অনুযায়ী, বাতাসে পিএম ১০, পিএম ১, পিএম ২.৫ মতো বিষাক্ত বস্ত শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরের ভেতরে ঢুকছে। এগুলি রক্তেও মিশছে। তাতে ইনসুলিনের কার্যকরিতা দু’ভাবে নষ্ট হচ্ছে। অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল বলেন, ‘নাড়া পোড়ানোর ফলে বিভিন্ন ধরণের বিষাক্ত বস্তু ধূলিকণার সঙ্গে মিশছে। খড়ের গাড়ার অংশ সবথেকে বেশি ক্ষতিকর। সেটা সম্পুর্ণ পোড়ে না। আনবার্ন কার্বন তৈরি হয়। সেটা ব্ল্যাকশ্যুট বা পার্টিকুলেড ম্যাট্যার রুপে বাতাসে চলে আসছে। ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে। সেটা নাড়া পোড়ানোর স্থল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। শরীরে ঢুকে নানা ধরণের সমস্যা তৈরি করছে। অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বহনে সমস্যা হচ্ছে। নাড়া পোড়ানোর ফলে কার্বনডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। এসব অত্যন্ত ক্ষতিকর। নাড়া পোড়ানো বন্ধর জন্য কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।’
পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ‘চাষিরা যথেষ্টই বুদ্ধিমান। তাঁরা নিজেদের ভালো বোঝেন। অনেকেই জমিতে আগুন দেন না। অল্পসংখ্যক কৃষক এসব করছেন। তাঁদের সচেতন করা হবে। আশা করি আগামীদিনে তাঁরাও এ কাজ করবেন না।’ কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, ‘নাড়া পোড়ানোর ফলে কিভাবে বায়ু দূষিত হয়, সেটা চাষিদের বোঝানো হয়। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য গ্রামে প্ল্যাকার্ড পোস্টারও দেওয়া হচ্ছে। আগের থেকে নাড়া পোড়ানোর প্রবণতা অনেক কমেছে। জমিতে আগুন দিলে মাটির উর্বরতা কমতে পারে। তাতে তাঁদের আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সুগার হলে সারা জীবন ভুগতে হবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গবেষণা তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। তাঁরাও চাষিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গবেষণার বিষয়টি সামনে আনবেন।