


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারা দেশে প্রায় আট কোটি ব্যবসায়ী বা ট্রেডার রয়েছেন। দেশের অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভর করে এই ব্যবসার উপর। ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসার পথ সহজ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ম করে করে নানা উদ্যোগের কথা বলে। বাস্তবে তেমন কাজের কাজ কিছুই হয় না বলে অভিযোগও ওঠে আকছার। তাই এবার ট্রেডারদের লাইসেন্স ব্যবস্থা আরও সরলীকরণ করার দাবি তুলল ব্যবসায়ীদের অন্যতম সর্বভারতীয় সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স’। তাদের দাবি, এবারের সাধারণ বাজেটে এমন কিছু নিয়ম বা বিধি আনা হোক, যার মাধ্যমে ‘এক দেশ, এক লাইসেন্স, এক রেজিস্ট্রেশন’ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। লাইসেন্স ব্যবস্থার সরলীকরণের জন্য সিঙ্গল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির দাবিও জানায় ট্রেডারদের সংগঠনটি। কেন্দ্রের কাছে তাদের আবেদন, শুধুমাত্র লাইসেন্স পাওয়া নয়, তার নবীকরণও যাতে ডিজিটাল ব্যবস্থায় সহজে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়, সেই পরিকাঠামো গড়ে তুলুক কেন্দ্রীয় সরকার। জিএসটি বা অন্যান্য কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো কমপ্লায়েন্স সিস্টেম’ চালু করার দাবি জানিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে ছোটো ব্যবসায়ী সহ সর্বস্তরে ট্রেডাররা যাতে সহজে কর প্রদান করতে পারেন, তার সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অহেতুক নোটিস জারি করা বা তল্লাশির নামে হয়রানি যাতে বন্ধ হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার জন্য আরজি জানিয়েছে কনফেডারেশন। সংগঠনের কর্তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজ্যের জেলায় জেলায় ছোটো ব্যবসায়ীরা এমন কিছু প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হন, যা সব সময় উচ্চমহলে বা প্রশাসনের শীর্ষস্তরে জানানো যায় না বা সম্ভব হয় না। সরকার ‘এক জেলা এক পণ্য’-এর মতো প্রকল্প ইতিমধ্যে চালু করেছে। সেইমতো ব্যবসার পথ সরলীকরণের জন্য যাতে কমিটি তৈরি করা হয়, সেই দাবিও জানিয়েছেন সংগঠনের কর্তারা। তাঁদের প্রস্তাব, প্রতিটি জেলায় প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের রেখে একটি যৌথ কমিটি তৈরি করা হোক। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতেই মিলবে সমাধান।
কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র বা ব্যবসাকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বহুবার বললেও বাস্তবে তা হয়নি। ব্যবসার সম্প্রসারণ বা তা চালিয়ে নিয়ে যেতে যে টাকার দরকার, তা জোগাড় করতে কালঘাম ছুটে যায় বহু ব্যবসায়ীর। কেন্দ্রীয় সরকার যাতে একটি আলাদা ট্রেড ফিনান্স পলিসি বা আলাদা আর্থিক নীতি ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ে আসে, সেই দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে। কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান টাকা ধার দেওয়ার পর, তা যাতে তারা ফেরত পায়, তার জন্য কঠোর নিয়ম আনার পক্ষপাতী ব্যবসায়ী সংগঠনটি। তবে ঋণ পেতে যাতে সমস্যা না হয়, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের বলেই মনে করছেন কনফেডারেশন কর্তারা।