


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের মুখে ভিন রাজ্যের নগদ টাকা ঢুকতে শুরু করেছে বাংলায়। পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় অবস্থিত রাজ্যগুলি দিয়ে সড়ক পথে অথবা ট্রেনে এই টাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আসছে। হাওলা কারবারিদের মাধ্যমেই হচ্ছে এই নগদের হাতবদল। এমনই তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। কারা এই বেআইনি কারবারে যুক্ত তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু গাড়ির উপর নজরদারি চালাচ্ছেন তাঁরা। ভোট এলেই রাজ্যে বাইরের টাকা আসতে শুরু করে। মূলত রাজস্থান, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাত থেকে বস্তা বস্তা নগদ টাকা আসে। সেসব পৌঁছায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে।
২০২১ সালে বিধানসভা এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টাকা এসেছিল ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত দিয়ে। এমনকি অসম সীমানা দিয়েও টাকা এসেছে উত্তরবঙ্গে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের হাওলা কারবারিরা। ভিন রাজ্যের কাউন্টারপার্টদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে তারা। বিপুল টাকা ঢোকানো হবে কীভাবে, এনিয়ে বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে তাদের নিরন্তর কথাবার্তা চলছে। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা জানতে পারছেন, ভোটের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা আসা শুরু হয়েছে গুজরাত রাজস্থান, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে। এগুলি স্টোর করা হচ্ছে বাংলা-বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা সীমানায়। সেখান দিয়ে এই টাকা আসবে পশ্চিমবঙ্গে। এমনকি অসমের সীমানা দিয়েও টাকা ঢোকানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হাওলা ব্যবসায়ীর কাছে এসব খবর পৌঁছেও গিয়েছে। তাদের হাত ঘুরেই এই টাকা ঢুকবে কলকাতায় এবং বিভিন্ন জেলায়। তার প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। বুধবার সকালে আলিপুরদুয়ারে একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা। গাড়িটি অসম থেকে এসেছিল। গোয়েন্দারা জানতে পারছেন, সড়কপথে গাড়িতে করে টাকা আনার প্ল্যান করা হয়েছে। যাতে পুলিশের সন্দেহ না-হয়, এজন্য তারা গাড়িতে থাকবে পর্যটক সেজে। ধরা পড়লে ছাড় পেয়ে যাবে বেড়াতে এসেছে বলে। তারই আড়ালে পাচার হবে টাকা। গাড়িতে পর্যটক সেজে থাকা সকলেই হওলা কারবারি বলে জানতে পারছেন গোয়েন্দারা।
একইসঙ্গে রেলপথও হাওলাকারবারীদের লক্ষ্য। এই টাকা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে যাবে বলে তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। কাদের মাধ্যমে হাতবদল হবে, সেটাই চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যাতে তাকে জেরা করে জানা যায় কোন রাজনৈতিক দলের কাছে এই টাকা পৌঁছাবে। টাকা আসার কথা রয়েছে, এমন কিছু গাড়ি গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে চিহ্নিতও করেছেন। সেই কারণে বিভিন্ন জেলা ও কমিশনারেটের পুলিশকে রাস্তায় গাড়ি চেকিংয়ের উপর বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে।