


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক দায়িত্ব নিতে রাজি হওয়ায় এভারেস্ট জয়ী সুব্রত ঘোষের মৃতদেহ উদ্ধারে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে চলতি মাসের শেষ ক’ দিনের মধ্যেই উদ্ধার হতে পারে সুব্রতর দেহ।
১৫ মে রানাঘাটের খিড়কি বাগান লেনের বাড়িতে সুব্রতর শৃঙ্গজয়ের খবর আসে। পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশীরা আনন্দের জোয়ারে ভাসেন। কিন্তু সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের খবর আসে, ফেরার পথে নিখোঁজ হয়েছেন সুব্রত। পরে নিশ্চিত খবর আসে, শৃঙ্গ জয় করে বাড়ি ফেরা হবে না সুব্রতর। তুষারশয্যায় চিরনিদ্রায় ঢলে পড়েছেন অভিযাত্রী বঙ্গসন্তান। হিলারি স্টেপের কোনও এক দুর্গম অঞ্চলে পড়ে রয়েছে তাঁর মৃতদেহ। এরপর সেই মরদেহ উদ্ধার নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। কারণ দেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজন বিপুল টাকা। যা দেওয়া সুব্রতর পরিবারের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র ভারত সরকারই পারে উদ্ধার করতে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ভরসা করে বিনিদ্র রজনী কাটছিল সুব্রতর পরিবারের। ভাই সুরজিৎ নিজেও পড়ে রয়েছেন কাঠমান্ডুতে। ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলেছেন ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার আর্থিক দায়িত্ব নিতে রাজি হলে কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়। দেহ উদ্ধারের তোড়জোড় শুরু হয় নতুন করে। কিন্তু ফের বাধ সাধে আবহাওয়া। কারণ সোমবার রাত থেকেই প্রচণ্ড তুষারঝড় শুরু হয়েছে উপরে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ২৬ মে রাতেই সুব্রত দেহ খুঁজে বের করতে হিলারি স্টেপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কথা এক শেরপার। কী অবস্থায় দেহ রয়েছে তা চিহ্নিত করে নীচে নেমে আসার কথা তাঁর। তারপর ২৮ অথবা ২৯ মে আবহাওয়া কেমন থাকে তার উপর নির্ভর করছে উদ্ধারকারী দলের অভিযান কখন শুরু হবে তার। কাঠমান্ডুতে থাকা সুব্রতর পরিবার সূত্রের খবর, ওই শেরপা আদৌ পৌঁছতে পেরেছেন কি না, তা জানা যায়নি। ফলে এখনও বোঝা যাচ্ছে না, কবে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। যদি উদ্ধার সম্ভব হয়, তাহলে প্রথমে ক্যাম্প ফোর এবং তারপর সেখান থেকে ক্যাম্প টু-তে নামিয়ে আনা হবে দেহ। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডু পর্যন্ত নিয়ে আসা হবে। এতদূর সব ঠিকঠাক থাকলে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রানাঘাটে এসে পৌঁছনোর কথা সুব্রতর দেহ। আজ বুধবারের আগে অবশ্য ছবিটা স্পষ্ট হওয়া মুশকিল।
এদিকে, ২৮ মে চলতি বছরের মতো সামিট বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই সময়সীমা বাড়তে পারে। ফলে আপাতত পরিবেশ এবং পরিস্থিতির ভরসায় থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। সুব্রতর পরিবারের ঘনিষ্ঠ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ভারত সরকার খরচ বহন করতে রাজি হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। উদ্ধার অভিযান শুরু হচ্ছে। ২ জুন মরদেহ রানাঘাট এসে পৌঁছতে পারে। সুব্রত ঘোষ। -ফাইল চিত্র