


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সুখটানের পর সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ দিয়ে ধ্বংস হবে মশার লার্ভা। তারজন্য অতিরিক্ত টাকা খরচের দরকার নেই। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকরা সহজেই মশা মারার টোটকা বের করেছেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল বলেন, সিগারেটের নেশা অনেকের রয়েছে। সুখটান দেওয়ার পর সিগারেটের বাকি অংশ যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। তাতে পরিবেশও দূষিত হয়। কিন্তু ফেলে দেওয়া অংশ সমাজের কাজে লাগানো যেতে পারে। ওই অংশে থাকা মশলা বের করে তা সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর তা মশার লার্ভার উপর স্প্রে করতে হবে। মুহূর্তে লার্ভা নষ্ট হয়ে যাবে। অনেক সময় টায়ার, টব বা বিভিন্ন জমা জলে মশার লার্ভা জন্মায়। তা নষ্ট করতে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। জন্য টাকা খরচ হয়। কিন্তু বিড়ি বা সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ ব্যবহার করা হলে একটি টাকাও খরচ হবে না। তিনজন ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন।
অধ্যাপকদের দাবি, রাসায়নিক দিয়ে লার্ভা নষ্ট করা হলে পরিবেশ দূষণ হতে পারে। কিন্তু সিগারেটের মশলা ব্যবহার করা হলে কোনওরকম দূষণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী দিনে তা নিয়ে জোরদার প্রচার করা হবে। যে কেউ সহজ পদ্ধতিতে এই কাজ করতে পারে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর বর্ষার সময় ডেঙ্গু চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। গত বছর পূর্ব বর্ধমান জেলাতে বহু মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। নদীয়া, হুগলি, হাওড়ার মতো জেলাগুলিতে প্রতিবছর ডেঙ্গুতে অনেকে প্রাণ হারান। ডেঙ্গু মোকাবিলা প্রশাসনের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের এই টোটকা কাজে দিলে প্রশাসন অনেকটাই চিন্তামুক্ত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল বলেন, আমরা একাধিক জায়গাতে পরীক্ষা চালিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। আগামী দিনে সকলেই যাতে এই অভিযানের শামিল হতে পারে তারজন্য কর্মশালা করা হবে। ছাত্রছাত্রীরাও এই কাজ করতে পারেন। সিগারেটের নেশা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। কিন্তু তা অন্যভাবে কাজে লাগানো হলে অনেকের জীবন বাঁচানো যেতে পারে। শুধু সিগারেট নয়, বিড়ির মশলা দিয়েও মশা তাড়ানো যেতে পারে। যাঁরা নেশায় আসক্ত রয়েছেন তাঁরা সুখটান দেওয়ার পর সিগারেটের বাকি অংশ এক জায়গায় জমা করে রাখতে পারেন। তাতে পরিবেশ যেমন সব সাফ থাকবে, তেমনই মশাও ধ্বংস হবে।