


নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য। এজন্য বিতর্কে জড়িয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কুনওয়ার বিজয় শাহ। ওই ঘটনায় তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ না মানায় মন্ত্রীকে তীব্র ভর্ৎসনা করল শীর্ষ আদালত। সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, মন্ত্রীর উদ্দেশ্য নিয়ে আদালতের ক্রমশ সন্দেহ বাড়ছে। উনি আদালতের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিতে চাইছেন। মন্ত্রীর আইনজীবী কে পরমেশ্বর জানান, বিজয় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। অনলাইনে তা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত তা কোর্টেও নথি হিসেবে দেওয়া হবে।
এরপর শীর্ষ আদালত এই মামলায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-কে পুরো বিষয়টি নিয়ে ১৩ আগস্ট রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে। তবে বিজয়ের ইস্তফার দাবিতে কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও তাঁর আবেদনে মন্ত্রীর পুরনো যে সব কার্যকলাপের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলি সিটকে খতিয়ে দেখতে বলেছে আদালত। ১৮ আগস্ট ফের এই মামলার শুনানি।
অপারেশন সিন্দুরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন কর্নেল কুরেশি। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত চলাকালীন নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেন তিনি। বিজয় ভারতীয় সেনার প্রশংসা করতে গিয়ে কর্নেল কুরেশিকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের বোন’ বলে উল্লেখ করেন। তারপরই দেশজুড়ে নিন্দার ঢেউ ওঠে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট পুলিসকে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়। পরিস্থিতি সামলাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইলেও স্বস্তি মেলেনি বিজয়ের। বরং তাঁর ক্ষমা চাওয়ার ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার তদন্তের জন্য সিট গঠনের জন্য নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।