


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালের ‘বদনাম’ করতে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, বাংলা থেকে নাকি নানা কোম্পানি পাততাড়ি গোটাচ্ছে। যদিও পাল্টা তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারের প্রচার, বেঙ্গল মানেই ব্যবসা। সত্যিটা কী? রাজ্য বিজেপির দাবি নস্যাৎ করে মঙ্গলবার খোদ মোদি সরকারই সংসদে জানাল, বছর বছর বাংলায় বিভিন্ন কোম্পানি রেজিস্টার করার সংখ্যা বাড়ছে। কিছু কোম্পানি তার অফিস অন্যত্র সরিয়ে নিলেও তা সামান্যই।
তাই আগামী দিনে বঙ্গ বিজেপি রাজ্যের বদনাম করলে কেন্দ্রের তথ্য সামনে রেখে জবাব দিতে তৈরি হচ্ছে তৃণমূল। এদিন দলীয় সাংসদের নিয়ে ইলিশ, পাবদা, চিকেনের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, সংসদ চলাকালীন হাজিরা বাড়াতে হবে। সামনেই রাজ্যে ভোট। তাই অন্য সময় যে যার নিজের এলাকায় বেশি করে সময় দিতে হবে। কোনওভাবেই বিজেপিকে বাড়তে দেওয়া যাবে না। সংসদ থেকে সড়ক, তৃণমূলের পারফরমেন্স জিইয়ে রাখতে হবে।
মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার কেন্দ্রের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছিলেন, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে কত কোম্পানির রেজিস্টার অফিস খুলেছে? গত পাঁচ বছরে কত কোম্পানি নতুন করে অফিস খুলেছে বা অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে? জবাবে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা জানিয়েছেন, ২০১০ সালের ৩১ মার্চ মোতাবেক পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্টার কোম্পানির সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯৬। যা বছর বছর বেড়েছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত তা হয়েছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৪৩। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৭ হাজার ১৯৭ টি কোম্পানি খুলেছে। অন্য রাজ্যে রেজিস্টার অফিস সরিয়েছে মাত্র ৩০৬। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৮ হাজার ৩৫৩ এবং ৩৬৬। চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত নতুন অফিস খুলেছে ৩ হাজার ৪৬৪। অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত মাত্র ১৫৬। অন্যদিকে, সাংসদ মালা রায় জানতে চান, ব্যাকওয়ার্ড রিজিয়ন গ্রান্ট ফান্ড ইস্যুতে বাংলাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে? পঞ্চায়েতিরাজ রাষ্ট্রমন্ত্রী এস পি বাঘেল জানিয়েছেন, বাজেট কম হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তার আগে ২০০৬-২০১৪, পশ্চিমবঙ্গের ১১ সহ দেশের ২৭২টি জেলাকে এই প্রকল্পে ২৭ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাংলাকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, বাংলা এবং বাঙালির অপমানের প্রতিবাদে এদিনও সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা। এদিন ১৯০৮ সালের ১৩ জুলাই মুজাফ্ফরপুর বোমা মামলায় বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদণ্ডের আদেশপত্রের একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘বাংলা মাথা নত করতে শেখেনি, স্বাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমরাও কোনও ফ্যাসিস্ট শক্তির কাছে মাথা নোয়াব না।’