


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ঘটনা-১: মাত্র ১৪৯ টাকার খাবার অর্ডার করেছিলেন সল্টলেকের এক বাসিন্দা। খাবারের মান ছিল খুবই খারাপ। তাই টাকা ফেরত চেয়ে তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন কাস্টমার কেয়ারে। ক্ষুব্ধ ক্রেতাকে ফোন করেছিলেন কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ। টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলেছিলেন। তিনি সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে ১ টাকা ট্রানজাকশন করার পরই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় প্রায় দু’লক্ষ টাকা!
ঘটনা-২: এয়ারপোর্ট থানার এক ব্যক্তি ডিজিটাল লেনদেনের সমস্যায় পড়েছিলেন। সমাধানের জন্য তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন কাস্টমার কেয়ারে। তাঁকেও ফোন করেছিলেন কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ। সমস্যা সমাধানে অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলেছিলেন। তিনি সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে একইভাবে ১ টাকা ট্রানজাকশন করার পরই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা!
সল্টলেক হোক বা এয়ারপোর্ট। ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভের কথায় অ্যাপ ডাউনলোড করলেই বিপদ। মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হতে পারে অ্যাকাউন্ট! অ্যাপ ডাউনলোড করিয়ে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কীভাবে ঘটছে এই প্রতারণা? পুলিস ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা গুগলে কাস্টমার কেয়ারের নামে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে রাখছে। গ্রাহকরা সেখানে ফোন করলেই প্রতাকররা একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলছে। এই অ্যাপগুলি স্ক্রিন শেয়ার অ্যাপ। গ্রাহক এই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই প্রতারকরা তাঁর ফোনের অ্যাকসেস পেয়ে যায়। তাই অ্যাপ ডাউনলো করার পর প্রথমে প্রতারকরা গ্রাহককে একবার ১ টাকা লেনদেন করতে বলে। গ্রাহক না জেনে ১ টাকা লেনদেন করলেই প্রতারকরা দূর থেকে গ্রাহকের মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের পিন সহ সমস্ত কিছু পেয়ে যায়। তারপর তারা ওই পিন ব্যবহার করে টাকা তুলে নেয়।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, গুগল থেকে কাস্টমার কেয়ারের নম্বর নিয়েই বেশিরভাগ মানুষ বিপদে পড়ছেন। কারণ, সেখানে প্রতারকদের নম্বরই বেশি। তবে, স্বাভাবিকভাবেও কাস্টমার কেয়ার বলে ফোন আসতে পারে। কিন্তু, কেউ যদি ফোনে কথা বলার সময় অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হতে হবে। কারণ, সামান্য ভুলেই যে কোনও সময় হতে পারেন সর্বস্বান্ত!