


স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: এক সময় সমবায় ব্যাংকগুলি ছিল ডাকাত দলের সহজ টার্গেট। কারণ, অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় সমবায় ব্যাংকে নিরাপত্তার বহর অনেকটাই কম। প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গেই বদলে গিয়েছে ডাকাতির ধরন। রক্ত-মাংসের ডাকাতের জায়গায় এসেছে ‘ডিজিটাল ডাকাত’। বেড়েছে অনলাইনে লুটের প্রবণতা। গ্রামীণ এলাকা হোক বা শহর—সব ক্ষেত্রেই চিত্রটা কমবেশি এক। রাজ্য পুলিশের দাবি, গত এক বছরে সমবায় ব্যাংক ও এর গ্রাহকদের ৩৫ কোটিরও বেশি টাকা খোয়া গিয়েছে সাইবার জালিয়াতিতে। কারণ, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল সমবায় ব্যাংকের ‘লক্ষ্মণরেখা’। বিষয়টি মাথায় রেখে গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থের সুরক্ষায় রাজ্যজুড়ে সমবায় ব্যাংকগুলির সাইবার নিরাপত্তা ঢেলে সাজা হচ্ছে। এবার থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংকে পাকাপাকি ‘ফরেনসিক অডিট’ শুরু হচ্ছে। গ্রাহকদের তথ্য চুরি ও ব্যাংকের সাইটে ডিজিটাল ডাকাতদের ঢুকে পড়া রুখতে কড়া প্রহরা থাকবে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। শুধু তাই নয়, সমবায় ব্যাংকের কোনও গ্রাহক সাইবার প্রতারণার শিকার হলে, অপরাধীকে চিহ্নিত করা যাবে অনেক সহজ। খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে বলে আশাবাদী রাজ্য। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশ ও সিআইডির সাইবার বিভাগের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে খবর সমবায় দপ্তর সূত্রে।
গ্রামীণ ও শহুরে সমবায় ব্যাংকগুলির নিরাপত্তায় থাকছে কেন্দ্রীয় নিয়মবিধি। ন্যাশনাল কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (সিইআরটি-ইন) তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হবে নিরাপত্তা বেষ্টনী। সিইআরটি-ইন গাইডলাইন অনুযায়ী গড়ে তোলা হবে সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, সাইবার ফরেনসিক অডিট চালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট প্যানেল তৈরি করা হবে। পাঁচ বছরের চুক্তি থাকবে সেই প্যানেলের সঙ্গে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সেই চুক্তি রিনিউ করা হবে। ব্যাংকের সার্ভারে কোনও ভুয়ো আইপি অ্যাড্রেস থেকে প্রবেশ করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করবে এই বিশেষ প্যানেল। সেই আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করতেও সক্ষম নয়া সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অসাধু উদ্দেশ্যে ‘অনুপ্রবেশের’ চেষ্টা করা সেই আইপি অ্যাড্রেসের আসল লোকেশন খুঁজে দেবে ফরেনসিক ল্যাব। ফলে সহজেই মিলবে অপরাধীর সন্ধান।
দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে সমবায় ব্যাংকগুলিতে কয়েক কোটি গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নম্বর, আধার নম্বর, প্যান নম্বর, মোবাইল নম্বর সহ বহু তথ্য গচ্ছিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে গ্রাহকের এটিএম কার্ডের নম্বরও। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘পুরোনো বেশ কিছু প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে দেখা গিয়েছে, ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সমবায় ব্যাংকের তথ্যভাণ্ডার থেকে গ্রাহকের এটিএম কার্ডের নম্বর খোয়া গিয়েছে। বিষয়টি নজরে রেখে গোটা তথ্যভাণ্ডারে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে ফরেনসিক অডিট প্যানেল।’ রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, আগামী দিনে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বাড়তে চলেছে। তাই গ্রাহকদের পুঁজি সংরক্ষিত রাখতেই সাইবার ফরেনসিক অডিট চালুর সিদ্ধান্ত।