


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরে হঠাৎ-ই শঙ্কার মেঘ। ভারতের সর্ববৃহৎ তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এই সেক্টরে। বস্তুত যে আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছিল তার কিছুটা যে অন্তত সত্যি সেই আভাসও এই সিদ্ধান্তে পাওয়া যাচ্ছে। যা আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি করেছে। টিসিএস জানিয়েছে, প্রযুক্তিতে আরও বেশি লগ্নি, বাজারের সম্প্রসারণ, কর্মী সংখ্যা বিন্যাস এবং আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সকে আরও উন্নীতকরণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স যে বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের অনুঘটক হতে পারে, এই আশঙ্কা ছিলই। টিসিএসের এই নয়া সিদ্ধান্তের জেরে সেই শঙ্কাই যেন আরও বেশি করে সামনে আসছে। দেশের বৃহত্তম তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী সংগঠন নাইটস কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রককে চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করেছে। তারা ভারত সরকারকে এই বিষয়ে একটি নীতি গ্রহণের কথাও বলবে। সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চাইছে এই সংগঠন।
দেশের তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরেই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়। দুর্বল অর্থনীতির মধ্যেও সেই সেক্টর উজ্জ্বল ছিল। জুন মাসের আর্থিক রিপোর্টেও সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, বেসরকারি সংস্থাগুলিতে কর্মী নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। সেখানে তথ্য-প্রযুক্তিতে এই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। কেন্দ্র সরাসরি কোনও বেসরকারি সেক্টরে হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও, তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কী করা যায়, সেটা নিয়ে তাই আলোচনা করছে। জরুরি বৈঠকও হয়েছে। সংসদের অধিবেশন হয়ে যাওয়ার পর কর্মী ইউনিয়ন এবং বণিকসভাকে নিয়ে ফের বৈঠক করার কথা ভাবছে। ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ লক্ষ কর্মী প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে এই সেক্টরে ৩ লক্ষ কর্মী বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরই লাগাতার বৃদ্ধিহার বজায় রেখেছে। কিন্তু গত বছর থেকে এই বৃদ্ধিহার প্রথম ধাক্কা খায় কর্মী সংকোচনের কারণে। দেশের সর্ববৃহৎ পাঁচ আইটি সংস্থা প্রায় ৩ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের এই শঙ্কা সেই আতঙ্ককেও যেন ছাপিয়ে গিয়েছে।