


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উজ্জ্বলা প্রকল্পে দেশের গরিব মানুষকে রান্নার গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। রেশনে কেরোসিনের বরাদ্দ লাগাতার ছাঁটাইয়ে এটাই ছিল কেন্দ্রের মূল যুক্তি। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে পশ্চিমবঙ্গসহ অধিকাংশ রাজ্যকে বরাদ্দ আগের তুলনায় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। বিহারের মতো এনডিএ শাসিত রাজ্যের ক্ষেত্রে বরাদ্দ এখন প্রায় দ্বিগুণ। এপ্রিল-জুনে রাজ্যগুলিকে সব মিলিয়ে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩১৬ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। গত জানুয়ারি-মার্চে বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৮৮৪ কিলোলিটার। উজ্জ্বলার সৌজন্যে কেরোসিনের চাহিদা হ্রাসের কেন্দ্রীয় যুক্তি খাটছে না, দাবি কেরোসিন ডিলার সংগঠনের। গরিব মানুষ উজ্জ্বলায় গ্যাস নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের কেরোসিন ডিলার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গুপ্তের। কেরোসিনের চাহিদা বৃদ্ধির চাপেই বরাদ্দ বেড়েছে। তবে দাম না কমালে মানুষের কোনও সুবিধা হবে না।
বিহারে বছর শেষেই বিধানসভা ভোট। কেরোসিনের বরাদ্দ তার আগে প্রচুর বাড়ানো হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ পর্বে বিহারে বরাদ্দ ছিল ৬৩৮৪ কিলোলিটার। এবার এপ্রিল-জুনে তা বাড়িয়ে ১২ হাজার ৯৬ কিলোলিটার করা হয়েছে। ওড়িশার বরাদ্দও এইসময়ে বেড়েছে, হয়েছে ৪৯৪৪ কিলোলিটার থেকে বাড়িয়ে ৭১৬৪ কিলোলিটার। বরাদ্দ ২৭০০ কিলোলিটার থেকে বাড়িয়ে ৪৭৪০ কিলোলিটার করা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। যে ১৬টি রাজ্যের জন্য কেরোসিন বরাদ্দ রয়েছে, তাদের প্রত্যেকে এবার বেশি পরিমাণে পাবে। শুধু গত ত্রৈমাসিকে কেরোসিন বরাদ্দ ছিল ১৯টি রাজ্যের জন্য। এবার বাদ পড়েছে মধ্যপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ ও নাগাল্যান্ড। কোনও রাজ্য সরকার চাইলে কেরোসিনের কোটা ছেড়ে দিতে পারে। রাজ্যগুলিকে কেরোসিন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব অনেক আগেই দিয়ে রেখেছে কেন্দ্র। কেরোসিন ছেড়ে দিলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য কিছু আর্থিক সুবিধা পায়।
বাংলা গোড়া থেকেই কেরোসিনের কোটা ছাড়তে রাজি নয়। আইনি কারণে পশ্চিমবঙ্গের বরাদ্দ ইচ্ছামতো কাটতেও পারেনি কেন্দ্র। হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রকে বরাদ্দ ঠিক করতে বলা হয়। এই ত্রৈমাসিকে পশ্চিমবঙ্গকে ৬২ হাজার ৭৬ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। সেটব গত ত্রৈমাসিকে ছিল ৫৮ হাজার ৯৬৮ কিলোলিটার। রাজ্য খাদ্যদপ্তর অবশ্য মাসে ২৫ হাজার, অর্থাৎ মোট ৭৫ হাজার কিলোলিটার চেয়েছিল কেন্দ্রের কাছ থেকে।