


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৫৬তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার উপর করের বোঝা কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে পিঠ চাপড়ে দিল শিল্পমহল। বুধবার রাতে কাউন্সিলের তরফে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর চাঙ্গা হল শেয়ার বাজারও।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দাবি ছিল, জিএসটির ভার কমানো হোক। আমাদের সেই দাবিকেই স্বীকৃতি দেওয়া হল। করের উপর কর সাধারণ মানুষের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে জিএসটির বোঝা বাড়িয়েছিল, আমাদের আন্দোলন তা কমাতে বাধ্য করল। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায় বলেন, প্রথমত, জিএসটির হার কমার ফলে শিল্প সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ কমবে। তার সুফল পাবেন ক্রেতারা। অন্যদিকে পণ্যের উপর জিএসটির বোঝা কমলে দেশজুড়ে চাহিদা বাড়বে। তা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করবে। মোট কথা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হবে এই সিদ্ধান্তে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপানোয় অর্থনীতিতে যে ধাক্কার আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও লাঘব করবে জিএসটি কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্ত। আবাসন নির্মাতা সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গলের সভাপতি সুশীল মোহতা বলেন, সিমেন্টের উপর জিএসটির হার কমানোর ফলে ৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের ক্রেতারা ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের সাশ্রয় হতে পারে ১৮ হাজার টাকা। তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা পেতে পারেন গ্রাহক।
টয় অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি অক্ষয় বিঞ্জরাজকা বলেন, খেলনার উপর জিএসটির হার কমানোর জন্য আমরা রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা জিএসটি কাউন্সিলের সদস্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম। আমাদের সেই আর্জি কাউন্সিলের বৈঠকে মান্যতা পেয়েছে। খেলনা, তাস, দাবা বোর্ড, ক্যারম ও অন্যান্য খেলনা বোর্ড, লুডো এবং ক্রীড়া সরঞ্জামের জিএসটি ১৮ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বণিকাসভা আইসিসি’র বক্তব্য, জিএসটির হার কমানোর ফলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার আরও ১ শতাংশ বাড়বে। কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনসের প্রেসিডেন্ট সুশীল মেহাতার কথায়, এমন সময় জিএসটির হার কমানো হল, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতির অতিদ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভারতের নিজের অর্থনীতি আরও চাঙ্গা করার প্রয়োজন ছিল। ব্যবসা পথ আরও সহজ করার দরকার ছিল। সরকার সেই কাজটিই করেছে। এতে দেশীয় পণ্যের চাহিদা ও গুরুত্ব বাড়বে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প আরও এগিয়ে যাবে। নতুন শিল্পসংস্থার জন্ম হবে। আমাদের দাবি, জিএসটির এই সুবিধা যতটা সম্ভব ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।
এদিন শেয়ারবাজার চাঙ্গা ছিল জিএসটি কাউন্সিলের ঘোষণায়। ইমামির শেয়ারের দর বেড়ে যায় ৩.৯৫ শতাংশ। কোলগো পামোলিভে তা বাড়ে ৩.৫৭ শতাংশ। ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ, ডাবর ইন্ডিয়া, নেসলে, হিন্দুস্থান ইউনিলিভারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্য সংস্থাগুলির শেয়ারের দর বেড়ে যায় যথাক্রমে ২.৮৭, ১.৭৫, ১.৫ এবং ০.২১ শতাংশ হারে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের এফএমসিজি সূচক ০.৩১ শতাংশ বেড়ে হয় ২০,৯৯৬.০৪। কনজিউমার ড্যুরেবলস সূচকও ০.০৩ শতাংশ বাড়ে এদিন। সিমেন্ট, হোটেল প্রভৃতি সংস্থার শেয়ার দরও এদিন চড়তে শুরু করে।