


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শহুরে রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হয়ে উঠেছে বহুতল আবাসনগুলি। উত্তর হাওড়া, মধ্য হাওড়া ও বালি— হাওড়া সদরের এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রে আবাসন ভিত্তিক ভোটব্যাংককে ঘিরে তৎপরতা বাড়িয়েছে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল তৃণমূল ও বিজেপি। নির্বাচন কমিশনও এবার আবাসন এলাকার ভোটারদের জন্য পৃথক বুথের ব্যবস্থা করছে। বহু আবাসনের বাসিন্দার দাবি, হিন্দিভাষী ভোটকে টার্গেট করে বিজেপি ভুল বোঝানোর চেষ্টা করলেও সম্প্রীতির বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন তাঁরা। ফলে এবারও তৃণমূলের উপরেই আস্থা রাখবেন তাঁরা।
উত্তর হাওড়ার একাধিক ছোটো ও মাঝারি আবাসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অবাঙালি ভোটারের বসবাস। বিহার, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাত থেকে আসা বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা ও বসবাসের সূত্রে স্থায়ী হয়েছে। এই আবাসনগুলিকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই জোরদার প্রচারে নেমেছে বিজেপি। প্রার্থী উমেশ রাইকে সকাল-সন্ধ্যায় আবাসন কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে। তবে, স্থানীয় স্তরে শোনা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে সাড়া মিললেও বড়ো অংশের ভোটারের মন জয় করতে ব্যর্থ পদ্ম শিবির। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী গৌতম চৌধুরী এই এলাকায় প্রচারে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় সূত্রে দাবি, সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অবাঙালি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি, যার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে বলেই আশাবাদী শাসক শিবির।
একইভাবে মধ্য হাওড়ায় তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায় গ্যাঞ্জেস গার্ডেন, আরিয়াহান্ট অ্যাপার্টমেন্ট, রাঘব রেসিডেন্সি ও বিবেক বিহারের মতো বহুতল অভিজাত আবাসনগুলিতে ধারাবাহিক জনসংযোগ কর্মসূচি চালাচ্ছেন। আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও চাহিদার খোঁজ নিচ্ছেন তিনি। বালিতেও একই চিত্র সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র বেলুড় অঞ্চলে মারোয়ারি ও রাজস্থানীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিবেকানন্দ কলোনি ও জানবাজার গলির মতো এলাকায় তাঁর প্রচারে অবাঙালি ভোটারদের উপস্থিতি ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের দাবি, সম্প্রীতির পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের সহাবস্থানই তাঁদের কাছে বড়ো শক্তি।
আবাসনগুলির বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছে, খারাপ রাস্তা, নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। তবে তৃণমূল প্রার্থীরা এই সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীরা প্রচারে এসে নিজেদের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণে বেশি ব্যস্ত, স্থানীয় ইস্যুতে তাঁরা ততটা মনোযোগী নন বলেই অভিযোগ উঠেছে। মধ্য হাওড়ার এক আবাসনের বাসিন্দা বিজেন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে এখানে আছি। মমতাদির জমানায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারছি। বিজেপি বলছে, ওরা এলে নাকি আরও সুবিধা হবে। তবে তাদের বক্তব্যে ভরসা পাচ্ছি না।’ উল্লেখ্য, ৩০০’র বেশি ভোটার রয়েছে, এমন আবাসনগুলিকে চিহ্নিত করে হাওড়া শহরে মোট তিনটি পৃথক পোলিং স্টেশন তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে দু’টি বালিতে ও একটি মধ্য হাওড়ায়। এই উদ্যোগের ফলে আবাসনভিত্তিক ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলেই আশা রাজনৈতিক দলগুলির।