


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকবছরে বাংলায় রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে ডিমের উৎপাদনে। তা সত্ত্বেও কেন দাম বাড়ছে ডিমের এবং পোল্ট্রি জাতীয় পণ্যের? উত্তর খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্ক ফোর্সকে। হাঁস-মুরগির খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভুট্টাচাষ বাড়লেও তার অধিকাংশই চলে যাচ্ছে ইথানল উৎপাদনে। ফলে হাঁস-মুরগির খাদ্যের জন্য ভুট্টা সরবারহে ঘাটতি থাকছে। তারই প্রভাব পড়ছে ডিমের দামে। তবে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভুট্টাচাষও। আবার খাবার তৈরিতে রাজ্যের স্বানির্ভর গোষ্ঠির সাফল্যের বিষয়টিও উঠে আসছে। তাহলে হাঁস-মুরগির খাবারের দাম বাড়ছে কেন? সব মিলিয়ে ডিমের মূল্যবৃদ্ধির আসল কারণ খুঁজে পেতে চাইছে নবান্ন। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে নবান্নে বসেছিল টাস্ক ফোর্সের বৈঠক। ছিলেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, কৃষি বিপণনসহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিবরা। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে আলোচনা হয়। তাবে এদিনের বৈঠকে ডিমের দাম কমানোর বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বর্তমানে ডিমের পাইকারি দর ৭ টাকা ৫ পয়সা। আর খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা করে। রাজ্যের পোল্ট্রি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মদন মাইতি জানান, রাজ্যে ব্যাপক উৎপাদন বৃদ্ধির ফলেই ডিমের দাম ৮ টাকায় বাঁধা সম্ভব হয়েছে। তবে দেখতে হবে তার থেকেও বেশি দামে বিক্রি না-হয় যেন। ২০২৫ সালে ডিমের গড় দাম গিয়েছে ৫ টাকা ৭৪ পয়সা। সেটা ৫ টাকা ৬৫ পয়সা ছিল গতবছর। আমরা ওই হিসেবটাই ধরে বাজার দর বিশ্লেষণ করি। এই পরিস্থিতিতে যাতে কোনও অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে ডিম বিক্রি না করে, তার জন্য পুলিশ এবং টাস্ক ফোর্স উভয়কেই নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ৩৫টি সুফল বাংলা কেন্দ্র সন্ধ্যাবেলায় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১৪টি কলকাতার। ২১টি বিধাননগর, রাজারহাট এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার। রাজ্যে মোট সাড়ে সাতশোটি সুফল বাংলা কেন্দ্র আছে। আরও ৫০টি গাড়ি এমাসের শেষেই যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।