


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, এসআইআরের শুনানির নোটিস আসার খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। এরপরই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিয়ারা এলাকার ২৬৬ নম্বর বুথে। মৃতের নাম শেখ আব্দুল আজিজ (৬২)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্দুলসাহেবের ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ছয় ছেলে ও বউমাকে নিয়ে তাঁর সংসার। সবারই ভোটার কার্ড থাকলেও পরিবারের ১১ জনকেই হিয়ারিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিএলওর কাছে নোটিস এসে পৌঁছেছে। এখনও ওই নোটিস তাঁদের হাতে এসে না পৌঁছালেও খবর জানাজানি হতেই চাপে পড়ে যান আব্দুল। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্ন কাগজপত্র খোঁজাখুঁজিও করছিলেন। শুক্রবার রাতে গ্রামের বাজারে গিয়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই অবস্থায় আচমকা তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
এদিকে, এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের মূল রাস্তা অবরোধ করা হয়। প্রায় আধঘন্টা ধরে চলে অবরোধ। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে পরিস্থিতির স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে শেখ মুরসালিন নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আব্দুলসাহেব একজন শান্ত প্রকৃতির মানুষ। তিনি কোনও ঝামেলার মধ্যে থাকেন না। শুক্রবার রাতে আমার কাছে এসেছিলেন হিয়ারিংয়ের বিষয়ে জানতে। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পুরানো যদি কোনও নথিপত্র খুঁজে বের করা যায়! তাঁকে এ বিষয়ে চিন্তা না করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি খুব সন্ত্রস্ত ছিলেন।’
আব্দুল আজিজের স্ত্রী আলিয়া বিবি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই এলাকায় বাস করছি। সবার ভোটার আইডেন্টি কার্ড রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাদের হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার রাতে বাজার থেকে ফিরে আমার স্বামী চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। ছেলে-মেয়েদের বারবার ফোন করছিলেন। এসআইআর আতঙ্কই তাঁর প্রাণ কেড়ে নিল।’ সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও অসীমা মণ্ডল অসুস্থ বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্বামী বলেন, ‘আব্দুলসাহেবের বাড়ির কয়েকজনের নামে হিয়ারিংয়ের নোটিস এসেছে। তবে এখনও সেই নোটিস তাঁদের হাতে দেওয়া হয়নি। সম্ভবত লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির কারণে নোটিস এসেছে।’