


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাঁকড়ার মুন্সিডাঙায় একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের ঘর থেকে এক কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত যুবকের নাম হামিদুল মল্লিক (৩০)। তিনি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের শিলাকোট গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কাজের সূত্রে ল্যাবের একটি ঘরেই থাকতেন তিনি। এদিন সকালে ল্যাবের কর্মীরা বাইরের শাটার বন্ধ দেখে তাঁকে অনেকবার ডাকাডাকি করলেও সাড়া মেলেনি। এরপর বাঁকড়া ফাঁড়ির পুলিশ এসে শাটার ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে ওই যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মৃতের সহকর্মীদের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে অবসাদে ভুগছিলেন হমিদুল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ঘর থেকে আধখাওয়া মদের বোতল, গ্লাস, জলের বোতল ও স্ন্যাকসের খালি প্যাকেট পাওয়া গিয়েছে। তবে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের শিলাকোট গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল প্রায় দশ বছর ধরে বাঁকড়ার এই ল্যাবে রক্ত সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন। সহকর্মীদের দাবি, তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সোদপুরের এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এমনকি, সেই তরুণী মাঝেমধ্যে ল্যাবেও আসতেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিবাদ নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছিল। তা নিয়ে অবসাদে ভুগছিলেন হামিদুল। অন্যান্য দিনের মতো রবিবার রাতে হামিদুল কাজ সেরে ল্যাবেই ছিলেন। ফলে প্রেমঘটিত কোনও জটিলতা শেষ পর্যন্ত এই পরিণতি ডেকে আনল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সহকর্মীরা।
ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে হাওড়া মর্গে আসেন হামিদুলের ভাই তাজিম মল্লিক ও পরিবারের সদস্যরা। তাজিম বলেন, ‘দাদা আত্মহত্যা করতে পারে, এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। এই মৃত্যু রহস্যজনক। পুলিশ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক।’ হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে পুরোটা স্পষ্ট হবে।’