


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আভাসেই স্পষ্ট হয়ে গেল, এই বছর দিল্লিতে পুরো জল-ছবি ঠিক কেমন হতে চলেছে! শুক্রবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার তুমুল ঝড়বৃষ্টি। তাতেই সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে গেল দেশের রাজধানী শহর দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে প্রথম পরীক্ষাতেই রীতিমতো ব্যর্থ দিল্লির নতুন বিজেপি সরকার। মাস দু’য়েক আগে দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যারা এই ব্যাপারে ক্রমাগত গালভরা আশ্বাস শুনিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কী সেই প্রতিশ্রুতি? বৃষ্টি হলেই আমআদমিকে আর তীব্র জলযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে না। কিন্তু তা যে আদতে কাগজে কলমেই রয়ে গিয়েছে, শুক্রবারই তার প্রমাণ মিলেছে।
এদিন ভোরে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে কয়েক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণ আভাস দিয়ে দিল যে, বরাবরের মতোই এই বর্ষাতেও দিল্লির মানুষের কপালে দুর্ভোগই নাচছে। রেহাই নেই। এদিন গাছ চাপা পড়ে নজফগড় এলাকায় মা এবং তাঁর তিন সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ওই মহিলার স্বামী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। প্রবল বৃষ্টিতে দিল্লির বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকা কিংবা শহরের অন্যতম ব্যস্ত চত্বর হিসেবে পরিচিত আইটিও, মিন্টো রোড, মোতি বাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল সম্পূর্ণ জলবন্দি হয়ে পড়ে। জল জমে যায় দিল্লির লোধি রোডে সিজিও কমপ্লেক্সে সূচনা ভবনের সামনেও। একটি অংশে রাস্তা ধসে যাওয়ারও খবর পাওয়া গিয়েছে। চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকেও। শুক্রবার সাতসকালে যাঁদের অফিসে বেরতে হয়েছে, তাঁদের ভোগান্তি তো হয়েছেই। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরই জল বহুক্ষণ না নামায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সবথেকে বেকায়দায় পড়েছে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা। তাদের স্কুলে পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হয় অভিভাবকদের। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো এদিন দিল্লিতে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংও।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-অসন্তোষের আঁচ পেয়েই শুক্রবার পথে নামেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর নির্দেশ পেয়ে বিজেপির অন্য মন্ত্রী, বিধায়করাও পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বেরন। জল জমার তুলনায় দিল্লিতে বৃষ্টির মধ্যেই যানবাহন চলাচল কতটা স্বাভাবিক রয়েছে, তা বোঝাতে মরিয়া হয়ে পড়েন তাঁরা। যদিও যে বিজেপি দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লাগাতার আশ্বাসবাণী শুনিয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টি বিপর্যয়ের পর দিল্লির বিজেপি নেতামন্ত্রীরা বলেছেন, ‘আপ সরকার দিল্লিতে ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল। ওরা কিছু করেনি। আমরা মাত্র ৬৫ দিন হল ক্ষমতায় এসেছি। রোগ সারাতে কিছু সময় তো লাগবেই।’ দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের তোপ, ‘চার ইঞ্জিন সরকার চলছে। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার, দিল্লিতে বিজেপি সরকার, পুরসভায় বিজেপির বোর্ড এবং উপরাজ্যপাল। ফলে দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে চলবে না।’ আর প্রবল রাজনৈতিক তরজার জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা প্রাপ্তির অপেক্ষায় দিল্লির মানুষ।