


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারত বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে আমাদের দেশের অর্থনীতি ৫ লক্ষ কোটি ডলারে পোঁছবে। ২০১৮ সালে এই তত্ত্ব সামনে এনেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। তাদের দেওয়া সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে সোমবার (৩১ মার্চ)। কিন্তু দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারল কি? উত্তর, না পারেনি। কবে পারবে, তা নিয়েও কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারছে না তারা। কেন পারল না? অর্থমন্ত্রক লিখিতভাবে সংসদে জবাব দিয়েছে, করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে গিয়েছে দেশ। সেই কারণেই সম্ভব হয়নি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ। কবে তা হবে? তার কোনও জবাব অবশ্য নেই। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালেও যে তা সম্ভব হবে না, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে তারা।
কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, ৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে তাদের মূল নজর পরিষেবা শিল্পে। এক লক্ষ কোটি ডলার আসবে কৃষি ক্ষেত্র থেকে। আরও এক লক্ষ কোটি ডলার মিলবে উৎপাদন শিল্প থেকে। বাকিটা আসবে পরিষেবা শিল্প মারফত। সরকার যখন এই ঘোষণা করে, তখনও করোনা পর্ব শুরু হয়নি। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে সরকার তার এই মতবাদ থেকে সরেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২২ সালে ঘোষণা করেন, তাঁরা ২০২৪ -২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে দেশকে পাঁচ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাবেনই। তাঁর সেই বক্তব্যকে সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি হিসেবে প্রকাশও করে। সরকার দাবি করে, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে যে পদক্ষেপ করছেন, তাতে তা অবশ্যই সম্ভব হবে। অর্থাৎ করোনা পরবর্তী সময়েও সরকার তার পুরনো অবস্থান থেকে সরেনি। পরবর্তী ক্ষেত্রে অবশ্য কেন্দ্র ২০৪৭ সালের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকেই প্রচারে এনেছে। কারণ, তারা জানতো, ঘড়ি ধরে বিকশিত ভারতের যে স্বপ্ন তারা দেখিয়েছিল, বাস্তবে তা সম্ভব নয়।
৫ লক্ষ কোটি ডলারের স্বপ্ন এখন ঠিক কোন জায়গায় আটকে আছে? কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে জানিয়েছে, ২০২৪ -২৫ অর্থবর্ষ শেষে ভারতের অর্থনীতি দাঁড়াতে পারে ৩৩১ লক্ষ কোটি টাকায়। যদি ধরে নেওয়া হয় ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ডলার পিছু ভারতীয় মুদ্রার দাম ছিল গড়ে ৮৪.৪ টাকা, সেই নিরিখে ভারতের অর্থনীতি পোঁছনোর কথা ৩.৯ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারে। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ সবে শেষ হয়েছে। দেশের জিডিপির অঙ্ক সঠিক কত, তা প্রকাশিত হতে এখনও কয়েক মাস সময় লাগবে। চলতি অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের অর্থনীতি কোথায় পোঁছাতে পারে, তারও হিসেব সংসদে দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফ মনে করছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষে অর্থনীতি পোঁছাতে পারে ৪.৩ লক্ষ কোটি টাকার ডলারে। অর্থাৎ আগামী এক বছরে তো বটেই, তার পরের বছরও যে সেই লক্ষমাত্রায় পোঁছনো সম্ভব নয়, তারই ইঙ্গিত দিয়েছে তারা, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। কারণ, মূল্যবৃদ্ধিকে হিসেবে ধরেই যদি ৬ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি হয়, তাহলেও অর্থনীতি ততটা বাড়বে না। প্রসঙ্গত, দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার গড়ে ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
লক্ষ্যমাত্রায় না পোঁছানোর ক্ষেত্রে সংসদে যুক্তিও খাড়া করেছে কেন্দ্র।।তাদের বক্তব্য, গত পাঁচ বছর ধরে বিশ্বে অভূতপূর্ব অস্থিরতা চলছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতি করে করোনা। পাশাপাশি ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে এগিয়েছে,তা বিশ্বের সর্বত্রই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতও তার বাইরে নয়।