


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যকে আগাম না জানিয়ে কেন ছাড়া হয় ডিভিসির (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) জল? সেই বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার জন্য ভেসে যায় বাংলার একাংশ। কেনই বা দিনের পর দিন নদীতে ড্রেজিং হয় না? মালদহ, মুর্শিদাবাদে যে গঙ্গার পাড় ভাঙে, তা রুখতেই বা কী করছে কেন্দ্র? একের পর এক প্রশ্নবাণ। বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটিতে এভাবেই সরকারি প্রতিনিধিদের প্রশ্নের মুখে ফেলল তৃণমূল। অবশ্য শুধু বাংলার শাসকদলের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারই নন, রাজ্য বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খানও পশ্চিমবঙ্গে থাকা নদী বাঁধ নিয়ে সরব হন। পুরোনো বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় জল রুখতে সমস্যা হয়। তা জেনেও কেন্দ্র কেন নতুন বাঁধ তৈরির উদ্যোগ নেয়নি, জানতে চান তিনি। যদিও বাংলার দুই সাংসদের কোনও প্রশ্নেরই জবাব বৈঠকে উপস্থিত সরকারি আধিকারিকরা স্পষ্টভাবে দেননি। তাঁরা জানিয়েছেন, বক্তব্য নোট করা হল। পরে জবাব দেব।
বৃহস্পতিবার ছিল স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠক। সভাপতিত্ব করেন বিজেপির সাংসদ রাধামোহন দাস আগরওয়াল। এদিন বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় ড্রেজিং ইশ্যুতে সরব হন কাকলিদেবী। বৈঠকে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের অভাবেই ডিভিসির ছাড়া জলে বাংলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলায় বন্যার জন্য দায়ী কেন্দ্র। কেন আগাম রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়া হয়? পাশাপাশি, ভাঙন নিয়েও সরব হন তিনি।
তৃণমূল সাংসদ জানান, বছরের পর বছর গঙ্গার পাড় ভেঙে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বাংলার দুই জেলাকে। অথচ কেন্দ্র তা রুখতে কেন ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ কেন নেয় না? সুর সুর মেলান সৌমিত্রও। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ‘রাজনীতি ভুলে’ বাংলার স্বার্থে সরব হন তিনিও। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, পুরোনো বাঁধগুলি ৬০-৭০ বছর আগে হয়েছে। সেগুলির ক্ষমতা কমছে। কেন্দ্র কি নতুন বাঁধ তৈরির কথা ভাবছে? জোড়া প্রশ্নবাণের পরেও অবশ্য জবাব অধরাই।