


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতির অর্থ কি জ্বালানি জোগানের অনিশ্চয়তা কেটে গেল? জ্বালানি আমদানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী কি খুলে যাবে এবং আবার সব স্বাভাবিক? একটিও নয়। ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও যথেষ্ট সংশয়ে। বুধবার একদিকে যেমন যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তেমনই শোনা যাচ্ছে ইরান হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায় করবে। এই সিদ্ধান্ত সত্যিই যদি ইরান নিয়ে থাকে, তবে তা অন্যান্য দেশ মেনে নেবে না। অর্থাৎ ফের অনিশ্চিত হরমুজ প্রণালী। সেই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে ভারতের খাদ্যমূল্যে। তিনদিন ধরে চলা নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের পর বুধবার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, ভারতে মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়বে। বিশেষ করে খাদ্যের। যে মূল্যবৃদ্ধির হার ২ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছিল দুমাস আগেও, সেই হার আগামী ত্রৈমাসিক গুলিতে ক্রমেই বাড়বে। একসময় প্রায় ৫ শতাংশ স্পর্শ করতে পারে। শুধুই খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়। এতদিন ধরে কোর সেক্টরের মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, সেটিও বাড়তে শুরু করেছে। সঞ্জয় মালহোত্রা বারংবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বড়সড় প্রভাব ফেলছে ভারতের অর্থনীতি ও মূল্যবৃদ্ধিতে। নীতি নির্ধারণ কমিটিতে শুধুই এই দুঃসংবাদ নয়। রেপো রেটও অপরিবর্তিত করে রেখে দিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ব্যাংক ঋণের উপর সুদের হার কমছে না। একই থাকছে। আর যেহেতু বর্তমান আর্থিক বছরের তাবৎ ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধির হার ক্রমবর্ধমান হবে বলেই আভাস দেওয়া হয়েছে, তাই আগামী দিনেও রেপো রেট কমার সম্ভাবনা নেই। বৈঠক থেকে সবথেকে ইঙ্গিতবাহী যে বার্তা উঠে এসেছে, সেটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সেটি হল, উৎপাদন সেক্টরের বিরূপ প্রভাব, কর্মসংস্থানে ধাক্কা, সাম্প্রতিক কর্মীছাঁটাই প্রবণতা, মার্চ মাসে বেকারত্ব বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে চিন্তা থাকলেও রিজার্ভ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। আসলে এখন রিজার্ভ ব্যাংক দেখতে চাইছে যে, পরিস্থিতি কোনদিকে যায়।