


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কী আছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে? ভারত খোলসা করতে নারাজ। কিন্তু আমেরিকা নয়। মঙ্গলবার আরও স্পষ্ট করে চুক্তির শর্ত ও তার অধীনে থাকা পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তর। আর তার জেরে ফের প্রবল অস্বস্তিতে মোদি সরকার। কারণ বিবৃতিতে স্পষ্ট যে, ডাল, সয়াবিন, বাদামের মতো কৃষিপণ্য থেকে কয়লা, এমনকি ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্সে পর্যন্ত আমেরিকা পেতে চলেছে বিপুল ছাড়। চুক্তির প্রধান শর্তগুলি কী? এই শিরোনামের বিবৃতিতে প্রথমেই বলে দেওয়া হয়েছে—ভারত-মার্কিন শিল্প সামগ্রী, বহু খাদ্যপণ্য এবং বিশেষত কৃষিপণ্যের উপর ট্যাক্স ভারত শূন্য করে দেবে, অথবা নগণ্য শুল্ক চাপাবে। ‘যে সব পণ্য কিনতে ভারত বাধ্য থাকবে’ তার মধ্যে সর্বপ্রধান হল, জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি, কয়লা ও কৃষিজাত দ্রব্য। এখানেই শেষ নয়, ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স ভারত সরকার সম্পূর্ণ তুলে নেবে।
‘বন্ধু’ দেশ। ‘বন্ধু’ প্রধানমন্ত্রী। এবং সেই ‘মিত্রতার খাতিরে’ই নাকি চুক্তি। অথচ নরেন্দ্র মোদিকে নিয়মমাফিক বিব্রত করাটা রুটিনে বদলে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদি অস্বস্তিতে পড়ছেন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধীদের টার্গেট হচ্ছেন। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন লাগাতার বিরোধীরা মোদি সরকারকে চেপে ধরছে। অভিযোগ তুলছে, ভারতের কৃষি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ স্রেফ জলাঞ্জলি দিয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। পালটা এই অভিযোগ খণ্ডন করে প্রাণপণে বাণিজ্যমন্ত্রী নথি দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিত। এমন সময়ে ভারত সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে ‘বন্ধু’র আচরণ করাটাই আমেরিকার থেকে প্রত্যাশিত ছিল। অথচ বিরোধীরা ঠিক যে অভিযোগগুলি তুলে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করছে, সেগুলিকেই যেন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় নেমেছে মার্কিন সরকার। দুই দেশের যৌথ বিবৃতি আগে প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিয়েছে। আর সেটা মোদি সরকারের ‘ড্যামেজ’ করার জন্য যথেষ্ট। বিবৃতির শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকার আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক। সেই ইচ্ছার সঙ্গে সংগতি রেখেই এই চুক্তি।’ অর্থাৎ আমেরিকার বন্ধু হতে ভারতের বিশেষ উৎসাহ ছিল। কংগ্রেস স্বাভাবিকভাবেই চেপে ধরেছে কেন্দ্রকে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেছেন, ‘সরকার ট্রাম্পের হুমকির কাছে এতটাই আত্মসমর্পণ করেছে যে, পশুখাদ্য পর্যন্ত আমেরিকা থেকে কিনতে বাধ্য থাকবে ভারত! আমাদের প্রাণিসম্পদ এবং প্রাণীদের খাদ্যের অভাব নেই। তাহলে ভারত সেটা আমদানি করবে কেন?’ কংগ্রেসের প্রশ্ন, সরকার বারবার দাবি করছে যে, চিরাচরিত জ্বালানি ছেড়ে ভারত বিশুদ্ধ জ্বালানির দিকে হাঁটবে। কোথায় তার প্রতিফলন? কোথায় গেল কয়লার আত্মনির্ভরতা? কয়লা পর্যন্ত আমরিকা থেকে আমদানি করতে ভারত বাধ্য হচ্ছে!
আমেরিকা জানিয়েছে, ‘ভারতের ১৪০ কোটির বাজারে অবাধ পণ্য রপ্তানির দরজা মার্কিন সংস্থা ও রপ্তানিকারীদের জন্য খুলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই সোনার দিন আর আসেনি।’ বিস্ময়কর হল, হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে ভারতের কী কী বাণিজ্যিক স্বার্থ পূর্ণ হবে, তার বিন্দুমাত্র আভাস নেই! তাহলে কি সংসদের বাইরে সাসপেন্ড হওয়া বিরোধী এমপিরা যে স্লোগান দিচ্ছেন, সেটা ঠিক? নরেন্দর সারেন্ডারড?