


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার প্রয়াত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা ভি এস অচ্যুতানন্দন। বয়স হয়েছিল ১০১ বছর। এদিন তিরুবনন্তপুরমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভিএসের মৃত্যু হয়। গত ২৩ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হন অচ্যুতানন্দন। ওইদিন থেকেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবার বেলা ৩টে ২০ মিনিটে ভিএসের মৃত্যু সংবাদ চূড়ান্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দান জানিয়েছেন, সোমবার ভিএসের মরদেহ প্রথমে তিরুবনন্তপুরমের একেজি স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাতেই মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভিএসের তিরুবনন্তপুরমের বাড়িতে। আজ, মঙ্গলবার সকালে ভিএসের মরদেহ নিয়ে আসা হবে শহরের দরবার হলে। সেখান থেকে বিকেলে নিয়ে যাওয়া হবে আলাপ্পুঝায়। অচ্যুতানন্দনের হোমটাউনে। আলাপ্পুঝায় দলের জেলা কার্যালয়ে ভিএসের মরদেহ শায়িত থাকবে সীমিত সময়ের জন্য। এরপর আলাপ্পুঝায় আজই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সিপিএমের প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে শেষ জীবিত সদস্য ভিএসের মৃত্যুতে দলের একটি যুগ শেষ হয়ে গেল। ১৯২৩ সালের ২০ অক্টোবর অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম ভিএসের। মাত্র চার বছর বয়সে মাকে হারান। স্কুলে থাকতেই হারান বাবাকেও। ১৯৪০ সালে বাম নেতা পি কৃষ্ণা পিল্লাইয়ের সংস্পর্শে আসার পরই তাঁর দলীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। ১৯৬৪ সালে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। ১৯৮৫ সালে পলিটব্যুরোতে অন্তর্ভুক্তি ঘটে তাঁর। ভিএসের মৃত্যুতে সোমবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে পলিটব্যুরো।
দলীয় কর্মীদের কাছে ‘কমরেড ভিএস’ নামে পরিচিত হলেও কার্যত আমৃত্যু তাঁকে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে লড়াই করে যেতে হয়েছে। এক্ষেত্রে কান্নুর লবির পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেই তাঁকে লড়তে হয়েছে সবথেকে বেশি। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কেরলের সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। পরবর্তী ক্ষেত্রে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ক্ষমতায় এলেও বয়সের কারণে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড় থেকে সরে যেতে হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন পিনারাই বিজয়ন।