


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনহীন গোল্ড বন্ড কোম্পানির রমরমা! বন্ড কিনলে বিপুল পরিমাণ সুদ ও রিটার্নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। সোনার বন্ডে বিনিয়োগের টোপ দিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি। বন্ড কেনার পর আমজনতার হাতে আসছে না সোনা। বলা হচ্ছে, ডিজিটালি এই সোনা রাখা আছে। প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খোয়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই নিয়ে উদ্বিগ্ন সেবি (সিকিওরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড) ও রাজ্য পুলিশ। জালিয়াতি বন্ধ করতে অনলাইনে ব্যবসা চালানো নিবন্ধনহীন কোম্পানিগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে সেবি সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা।
সারদা রোজভ্যালি কাণ্ডের পর প্রকাশ্যে এসেছিল চিটফান্ড কেলেঙ্কারি। টাকা রেখে প্রতারিত সাধারণ আমানতকারীরা। শেষ পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে অনলাইন বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার বেড়েছে। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতারণা। সেবির কর্তাদের নজরে এসেছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বীকৃত সভারেন গোল্ড বন্ডের মতো অনলাইনে একাধিক কোম্পানি এই স্কিম খুলে বসেছে। অথচ এরজন্য আরবিআই, সেবি সহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতিই নেওয়া হয়নি। অনলাইনে প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন চলছে। তাতে লেখা হচ্ছে অনলাইনে গোল্ড বন্ড কিনলে, মিলবে মাসিক আট থেকে দশ শতাংশ হারে সুদ। ম্যাচিওরিটির সময় পাওয়া যাবে বড় অঙ্কের টাকা। সোনার দামে পতন ঘটলেও রিটার্ন একই থাকবে। উল্লেখ করা থাকছে আমানতকারীরা সোনা সরাসরি হাতে পাবেন না। ডিজিটালই তা কেনা থাকছে। অনলাইনে ব্যবসা চালানো স্বীকৃতিহীন ওই কোম্পানিগুলি দাবি করছে, তাদের প্রচুর সোনা কেনা আছে। তাই কোম্পানিতে লালবাতি জ্বললেও, সোনা বিক্রি করে আমজনতার রাখা টাকা ফেরত দিতে পারবে নিয়ামক সংস্থাগুলি।
সেবি ও রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, এভাবে অনলাইনে প্রতারণা ব্যবসা চালাচ্ছে আরবিআই ও সেবির নিবন্ধীকরণ না থাকা একাধিক কোম্পানি। বাড়তি টাকার লোভে সাধারণ মানুষ ভালো করে এই কোম্পানিগুলির বিষয়ে খোঁজখবরও নিচ্ছেন না। অনলাইনে বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে গোল্ড বন্ড কিনে নিচ্ছেন। ডিজিটাল পেমেন্ট করা হচ্ছে। এভাবে বাজার থেকে কয়েকশো কোটি টাকা তোলার পর ঝাঁপ গোটাচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলা স্বীকৃতিহীন কোম্পানিগুলি। নাম পাল্টে,নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে আবার প্রতারণা শুরু হচ্ছে। খোঁজখবর করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, ইতিমধ্যেই রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো তুলে
ফেলেছে নিবন্ধীকৃত না থাকা বিভিন্ন কোম্পানি। দেশ জুড়ে এই অঙ্কটা প্রাথমিকভাবে তিন হাজার কোটির বেশি বলে জানা যাচ্ছে। সেই কারণে অনলাইনে প্ল্যাটফর্মে চলা এমন কোম্পানি, যাদের নিয়ামক সংস্থার স্বীকৃতি নেই, তাদের থেকে গোল্ড বন্ড না কেনার পরামর্শ দিচ্ছে সেবি ও পুলিশ। এক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতারণায় অভিযুক্ত স্বীকৃতিহীন কোম্পানিগুলির তথ্য জোগাড়ের পর তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কাটাছেঁড়া শুরু হবে। যাতে প্রতারণার টাকা কোথায় রয়েছে, তা খুঁজে বের করে বাজেয়াপ্ত করা যায়।