


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভারতীয় বায়ুসেনার ৯৩তম বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নৈশভোজ। মেনুও জমজমাট। কী নেই তাতে! পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে সিন্ধ, পাঞ্জাব, করাচি, ইসলামাবাদের গা ছোঁয়া রাওয়ালপিন্ডি এমনকী লাহোরও! তারিয়ে তারিয়ে সেসব উপভোগ করেছেন ‘আকাশ যোদ্ধারা’। গরম গরম ‘রাওয়ালপিন্ডি চিকেন টিক্কা মশালা’, তুলতুলে ‘বাহওয়ালপুর নান’, ‘রফিকি রারা মাটন’, ধোঁয়া ওঠা ‘জাকোবাবাদ মেওয়া পোলাও’ সহ আরও কত কী! শেষ পাতে ইতালিয়ান মিষ্টি ‘বালাকোট তিরামিশু’। সঙ্গে ‘মুজফ্ফরাবাদ কুলফি ফালুদা’ এবং ‘মুরিদকে মিঠা পান’। ফাইটার জেটের নিশানার পর এবার খাদ্য তালিকাতেও পাকিস্তান! পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পর্বে লস্কর-জয়েশ জঙ্গিদের ঘাঁটি সহ পাকিস্তানের যে সমস্ত এয়ারবেস ধ্বংস করেছিল ভারত, মেনুতে সেই সব ‘না-পাক আস্তানা’। বায়ুসেনার এহেন ‘ডিনার ডিসপ্লে’ তালিকা এখন দেশজুড়ে ভাইরাল।
বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি অবশ্য মেলেনি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনা দিবসকে সামনে রেখেই বুধবার দেশের বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিংয়ের বাড়িতে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই ডিসপ্লে করা হয়েছিল ওই অভিনব মেনু। তাতে লেখা, ‘রাওয়ালপিণ্ডি চিকেন টিক্কা মশালা’, ‘রফিকি রারা মটন’, ‘ভোলারি পনির মিঠি মালাই’, ‘সুকুর শাম সভেরা কোপ্তা’, ‘সারগোধা ডাল মাখানি’, ‘জাকোবাবাদ মেওয়া পোলাও’ এবং ‘বাহওয়ালপুর নান’। ডিসার্টে লেখা হয়েছিল, ‘বালাকোট তিরামিশু’, ‘মুজফ্ফরাবাদ কুলফি ফালুদা’ এবং ‘মুরিদকে মিঠা পান’। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুরের অভিনব সাফল্য কার্যত উদযাপিত হয়েছে ওই নৈশভোজে।
ডিসপ্লে মেনুর বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনায় দেশজুড়ে বাহবা কুড়িয়েছে বায়ুসেনা। পাকিস্তানকে ‘কড়কে’ দেওয়া বায়ুসেনার আত্মবিশ্বাসও যেন ফুটে উঠেছে এই মেুনতে। যদিও খাবারের তালিকায় আরও ছিল... মাটন টুন্ডে, চিকেন গিলাফি সিক, চিকেন সাওয়ারমা, হানি চিলি পনির, স্মোকড গার্লিক ফ্রাইড রাইসের মতো চেনা পদ। তবে মন কেড়েছে ‘রাওয়ালপিণ্ডি চিকেন টিক্কা মশালা’! নৈশভোজে হাজির ছিলেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সহ বিশিষ্টজনরা।
জানা গিয়েছে, নুর খান এয়ারবেসে সফল অপারেশনের নামেই ‘রাওয়ালপিণ্ডি চিকেন টিক্কা মশালা’। বাহওয়ালপুরে মাসুদ আজহারের মূল ডেরা তথা জয়েশ-ই-মহম্মদের সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ুসেনা। তাই ‘বাহওয়ালপুর নান’। রফিকি ও জাকোবাবাদ এয়ারবেসে প্রত্যাঘাতের নামে ‘রফিকি রারা মটন’ আর ‘জাকোবাবাদ মেওয়া পোলাও’। ‘সুকুর শাম সভেরা কোপ্তা’ সিন্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত পাক বায়ুসেনার ১৯ স্কোয়াড্রনের এয়ারবেসের নামে। পাক অধিগৃহীত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদ ও মুরিদকেতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল লস্কর-ই-তোইবার ঘাঁটি। সেই নামেই ‘মুজফ্ফরাবাদ কুলফি ফালুদা’ এবং ‘মুরিদকে মিঠা পান’। বায়ুসেনার বড় সাফল্য বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক। তাই শেষপাতে ইতালিয়ান ডিসার্টের নাম ‘বালাকোট তিরামিশু’!