


সংবাদদাতা, বসিরহাট: রমজান মাসে বাজারে ফলের চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু এবার রমজান মাসের শুরু থেকেই ফলের আগুন দাম দেখা গেল বাদুড়িয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, বসিরহাট ও টাকিতে। রামচন্দ্রপুর বাজারের এক ক্রেতা বাকিবিল্লা মণ্ডল বলেন, আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা প্রতি কেজিতে। শাঁকালুর দাম ৬৫ টাকা কেজি, আর লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। দেখা যাচ্ছে, বাজারে ফলের দামে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। হাসনাবাদ বাজারে এক ক্রেতা আল মামুন জানান, দাম সাংঘাতিকভাবে বেড়েছে ফল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে পিস প্রতি ১৫ থেকে ১৮ টাকা। ফলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মিছরির দামও। মুদি দোকানি তুহিন মণ্ডল জানান, মিছরি ও বাতাসার চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু জোগান কম। এই কারণে সামান্য দাম বেড়েছে। তবে সরবত তৈরির জন্য স্কোয়াশ, রু আবজা ইত্যাদির দাম তুলনামূলকভাবে একই রয়েছে। সঙ্গে লিকুইড ওআরএসের বাড়তি চাহিদাও রয়েছে। এছাড়া বাজারে প্রিমিয়াম কোয়ালিটি খেজুরের চাহিদাও বেশ ভালো। তকিপুর রাজলক্ষ্মী হাইস্কুলের শিক্ষক নাজেস আফরোজ মোল্লা বলেন, প্রতিবার রমজান মাস এলেই ফলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড সৃষ্টি হয়। সরকারের এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। তবে বাদুড়িয়া পুরসভার কাউন্সিলার গৌতম গুপ্তা ও চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের তরফে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বাজারদর যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে নজর দিতে। কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাদুড়িয়ার এক ফল বিক্রেতা তৌফিক মণ্ডল বলেন, আমরা খুচরো বিক্রেতা, আমাদের লভ্যাংশ সীমিত। তবে পুজো পার্বণ ও রোজা এলে ফলের দাম একটু বাড়ে। চিকিৎসক ডাঃ তীর্থঙ্কর দাশগুপ্ত বলেন, আমরা রোগীদের সারা বছর ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। কিন্তু বাজারদর নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কীভাবে রোগীরা ফল কিনবেন? এনিয়ে বাজারের দিকে নজর রাখা উচিত প্রশাসনের। নিজস্ব চিত্র