


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: দেবী দুর্গার বাঁদিকে থাকে কার্তিক, গণেশ থাকে ডানদিকে। কিন্তু বাংলাদেশে থাকাকালীন ঘরের ছেলে ভুল করে মায়ের বাঁদিকে সরস্বতীর পাশে বসিয়েছিলেন গণেশকে। আর কার্তিকের জায়গা হয়েছিল লক্ষ্মীর পাশে। তখন থেকেই সাহা পরিবারের দেবীমূর্তি সেই আঙ্গিকেই হয়ে আসছে। তারপর ঠাঁইনাড়া হয়ে এই পুজো উঠে আসে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কালোবাড়িতে। এখানে আসার পরেও প্রতিমার গড়ন বদলায়নি। এখানে দেবীদুর্গার সঙ্গে অসুর থাকলেও মহিষ নেই। সেই ধারা মেনেই একচালার ওই প্রতিমায় পুজো সারে সাহাবাড়ি। এবার এই পুজো শতবর্ষে পড়ল।
১৯২৬ সাল। সেই সময় সাহা পরিবারের সদস্যরা থাকতেন অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলায়। পরিবারের পূর্বপুরুষ সত্যেন্দ্রনাথ সাহা ছোটবেলায় মাটি নিয়ে খেলতে খেলতেই গড়েছিলেন মা দুর্গার প্রতিমা। অব্রাহ্মণ হলেও সেই থেকে মনে মনে উমার পুজো করতে শুরু করেন তিনি। সাধারণত দেবীদুর্গার বাঁদিকে থাকে কার্তিক, গণেশ থাকে মায়ের ডানদিকে। কিন্তু সত্যেন্দ্রনাথ দুর্গা তৈরি করেছিলেন সম্পূর্ণ উল্টো করে। ভুলবশত মায়ের বাঁদিকে বসিয়েছিলেন গণেশ ও সরস্বতীকে। আর ডানদিকে রেখেছিলেন কার্তিক ও লক্ষ্মীকে। পরবর্তীকালে সত্যেন্দ্রনাথের তিন দাদা উদ্যোগী হয়ে পাবনার নাটাবেড়িয়ায় বাড়ির নাটমন্দিরে ওই মূর্তি বসিয়ে দুর্গাপুজো শুরু করেন। ভাইয়ের ভুলে কার্তিক ও গণেশের অবস্থান বদল হলেও সত্যেন্দ্রনাথের তৃতীয় প্রজন্ম আজও সেই ধারা বজায় রেখে পুজো করছেন অশোকনগরের কালোবাড়িতে। এই পুজোর অন্যতম কর্তা বিশ্বেশ্বর সাহা। শরিকদের নিয়েই শতবর্ষের পুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
ষষ্ঠী ছাড়াও সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতেও বিভিন্ন ধরনের ভোগ সাজিয়ে মায়ের পুজো হয়। দশমীতে অবশ্য মায়ের স্বাদ বদল করা হয়। দশমীর ভোগে থাকে নাড়ু, মুড়ি, মুড়কি। অন্নপ্রসাদের সঙ্গে মানকচু, বিভিন্ন সবজি, ডাল ও গন্ধরাজ লেবু। প্রতিদিন ভোগে থাকে ঘিয়ে ভাজা লুচি আর পায়েস।
বিশ্বেশ্বরবাবু বলেন, এই পুজো আমাদের কাছে আবেগের। পূর্বপুরুষ সত্যেন্দ্রনাথ সাহার ছোট্ট একটি ভুলে কার্তিক ও গণেশের অবস্থান পাল্টে গিয়েছিল। সেই থেকে এভাবেই এই পুজো চলে আসছে। ভাইয়েরা আমরা একসঙ্গে সাহাবাড়ির দুর্গাপুজাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি আনন্দের সঙ্গে।
সাহাবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।-ফাইল চিত্র