


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চৈত্র পেরলে, পরপর তিনমাস বিয়ের মরশুম। লগনসাকে কেন্দ্র করে গয়না কেনার জন্য অপেক্ষায় আছেন বহু ক্রেতা। এদিকে পয়লা বৈশাখে সোনার বাজারকে কেন্দ্র করে বাঙালির আবেগ চিরন্তন। সেই আবেগকে এবার আরও একটু উস্কে দিচ্ছে সোনার দাম। কারণ, গত সপ্তাহে পরপর দু’দিন দাম কমেছে সোনার। দাম যে এবার কমতেই থাকবে, তা হলপ করে বলা না গেলেও আশা ছাড়তে রাজি নন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। স্বর্ণশিল্প মহল বলছে, পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিটি দোকান কিছু না কিছু অফার চালু রাখে। মজুরিতে ছাড় থেকে শুরু করে হরেক উপহার দিন শেষে সুবিধা করে দেয় ক্রেতাকেই। তার সঙ্গে যদি সোনার দামও নিম্নগামী হয়, তাহলে সার্বিকভাবে উপকৃত হবেন ক্রেতা।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি নিয়ে দোলাচলে ছিল বিশ্ব। তার জেরে হু হু করতে চড়তে শুরু করেছিল সোনার দর। গত বুধবার সব দেশের উপর পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তার জেরে বৃহস্পতিবারই রেকর্ড ছোঁয় সোনা। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন শহরে ১০ গ্রাম খুচরো পাকা সোনার ২৪ ক্যারেটের দাম ওঠে ৯১ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু তারপরের দিনই দাম অনেকটা কমে যায়। তা নামে ৯০ হাজার ৫০০ টাকায়। শনিবারও দামের পতন অব্যাহত ছিল। ওইদিন এবং রবিবার ১০ গ্রাম সোনার দর যায় ৮৯ হাজার ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে দাম নামতে শুরু করে রুপোরও। যেখানে গত সোমবার ৩১ মার্চে রুপোর কেজি প্রতি দর ছিল ১ লক্ষ ১ হাজার ৩০০ টাকা, তা রবিবার নেমে আসে ৮৯ হাজার ৩০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজি প্রতি দাম কমে ১২ হাজার টাকা।
আমেরিকার শুল্কের প্রভাব বিশ্বে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেই ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাই লগ্নির বাজারে অস্থিরতা জারি থাকবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। যেহেতু সোনার দামও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল, তাই তার দামের দোলাচলও থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেনকো গোল্ড লিমিটেডের এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেনের কথায়, বাজার আরও পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন লগ্নিকারীদের একাংশ। তার জেরে দাম পড়ছে। কিন্তু আমেরিকা সুদের হার ঘোষণা করার আগে ফের বাজারে অস্থিরতা বাড়বে। তাতে সোনার দামও বাড়বে বলে মনে করছি আমরা। সেই কারণেই ক্রেতারা যদি এখন সোনা কেনেন, তাহলে তাঁরা লাভবান হবেন। পয়লা বৈশাখ কেন্দ্রিক কেনাকাটা তাই এবার ভালো হবে, এমনই আশা করছি আমরা।
অন্যদিকে অঞ্জলি জুয়েলার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর অনর্ঘ্য উত্তীয় চৌধুরীর কথায়, বিশ্বের যে সার্বিক আশঙ্কা দানা বেঁধেছিল তা কিছুটা হলেও কমতির দিকে। অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনার মজুত বাড়াতে থাকে। তা সোনার দাম বৃদ্ধিতে প্ররোচনা দেয়। যেহেতু এখন দাম কমছে, তাই পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ক্রেতারা একই বাজেটে বেশি পরিমাণ সোনা কিনতে পারবেন। এর ফলে লাভবান হবেন তাঁরা।